নিকলীতে মাদকের নিরাপদ স্বর্গরাজ্য

অর্ধশতাধিক স্পটে বিক্রি হচ্ছে হিরোইন, ইয়াবা, গাজা ও মদ

সংবাদদাতা ।।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মাদকের ভয়াবহ ছোবলে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী ও যুবকরা। মাদকের হিংস্র থাবায় দিনে দিনে বিপথগামী হয়ে উঠেছে। নিকলী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা মিটিং-এ জনপ্রতিনিধিরা মাদকের সেবন ও বেচাকেনা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বন্ধ হওয়ার কোন পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে না। নিকলী উপজেলার অর্ধশতাধিক স্পটে মদ, গাজা ডেন্ডি, ইয়াবা ও হিরোইন বিক্রি হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রাম অঞ্চলকে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান মনে করে।
সুনামগঞ্জের আজমেরীগঞ্জ ও সিলেট থেকে নৌপথে গাঁজার চালান আসছে। উপজেলার একমাত্র ঘোড়াউত্রা নদীর পূর্বপাশে ছাতিরচর ইউনিয়নে। ছাতিরচর থেকে গোড়ই ইউনিয়নের পাড়াবাজিতপুর গ্রামের বদর উদ্দিনের পুত্র মো: জঙ্গু মিয়া রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে থাকে। ২০১৪ সালের ৭ই ডিসেম্বর জঙ্গু মিয়া গাজার চালান নিয়ে ছাতিরচর থেকে বাজিতপুরে আসার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিকলী থানা পুলিশ জঙ্গু মিয়াকে মোটর সাইকেল সহ আটক করলে পুলিশের এসআই আবুল কাশেম কে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে গাজা নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ফেলে যাওয়া মটর সাইকেলের তেলের টেংকির নিচে ২০০ গ্রাম গাজা পাওয়া যায়। জঙ্গু মিয়ার বিরুদ্ধে নিকলী থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। পুলিশের মধ্যে মাদক বিক্রেতাদের সোর্স রয়েছে ও কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যদের কারণে পুলিশ রেট দেয়ার আগেই মাদক বিক্রেতাদের কাছে সংবাদ পৌছে যায়। গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ৫০০ পিস ইয়াবা সাথে নিয়ে নিকলী সিএনজি স্টেশন থেকে মজলিশপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী ওরফে শুক্কুর আলীর পুত্র বকুল ও লাল মিয়ার পুত্র আরিফ ভাড়া মটর সাইকেল যোগে মজলিশপুর যাওয়ার পথে নিকলী থানা পুলিশ খবর পেয়ে কামালপুর ব্রীজ সংলগ্ন তাদেরকে আটক করে। আটকের আগেই ৫০০ পিস ইয়াবা উধাও হয়ে যায়। পরদিন ৩ এপ্রিল শুক্রবার ২ জনকে মদ সেবনকারী হিসাবে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে বকুলকে ৬ মাস ও আরিফ কে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দন্ডিত করে আদালত। চলতি বছর ৯ জানুয়ারী উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের হাজী মোতালিবের পুত্র ইয়াবা ব্যবসায়ী মো: নজরুল ইসলামকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে নিকলী থানার পুলিশ। এছাড়াও ভ্রাম্যমান আদালত গাজা ও মদ সেবনকারী নিকলী সদর ইউনিয়নের পূর্বগ্রামের তোফাজ্জল হোসেন কে ১ মাস কুর্শা গ্রামের ছাইদুর কে ৩ মাস কটিয়াদী উপজেলার পাচলিপাড়া গ্রামের শিকুল কে ৩ মাস গুরুই ইউনিয়নের ইমরান হোসেন কে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করে। একটি সূত্রমতে চট্টগ্রাম থেকে চট্টগ্রাম টু নিকলী বাসে ও ভৈরব হতে সিএনজি যোগে ইয়াবা ও হিরোইনের চালান আসছে নিকলীতে। নিকলী শহীদ স্মরণিকা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের মোড়ে ভদ্্রবেশী ইয়াবা ব্যবসায়ী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। নিকলী খেলার মাঠ,ঈদগাহ মোড়, নতুন বাজার,শ্মশান খলা, হাসপাতালের মোড়, কুর্শার মোড়, টিক্কলহাটি মোহরকোনার বাজার, মোহরকোনা একটি বাড়িতে গাজা বিক্রি হচ্ছে। এমনকি সোয়াজনী নদীতে নৌকায় ফেরি করে রাতের আধারে বিক্রি হচ্ছে চোলাই মদ। দামপড়া মাছ মহল, দামপাড়া সিএনজি ষ্টেশন, দনি দামপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন, উত্তর দামপাড়া বিক্রি হচ্ছে মদ ও ইয়াবা। মাজলিশপুর বাজারে ইয়াবার একাধিক ব্যবসায়ী রয়েছে। মজলিশপুর ফকির ভিটায় দিব্যি বিক্রি হচ্ছে গাজা। কারপাশার একটি বাড়িতে তৈরি হচ্ছে চোলাই মদ।শান্তিপুর গ্রামে বিক্রি হচ্ছে দেশীয় তৈরী মদ। জারইতলা ইউনিয়নের রোদারপুড্ডা বাজারে রয়েছে ইয়াবা বিক্রির দুইটি স্পট। রসুলপুর তৈরী হচ্ছে চুলাইমদ। সাজনপুর ও ধারিশ্বর বিক্রি হচ্ছে মদ। ছাতিরচর ইউনিয়নের দণিপাড়া গ্রমের রাশেদ পাগলা উত্তর পাড়া গ্রামের কোপুল বিজয় নগর গ্রামের খালেক দেওয়ান সোনাউল্লা ঘাটির ফরিদ ও পশ্চিম পাড়া গ্রামের কালাম পাগলা গাজা সেবন ও বিক্রি করছে। গুরুই ইউনিয়নের মসজিদ পাড়া উত্তর পাড়া পূর্বহাটি ও পাড়া বাজিতপুর ব্রীজ সংলগ্ন সিংপুর ইউনিয়নে ঘোড়াদিঘা ভাটিবরাটিয়া ও সিংপুর বাজারে মদ ও গাজা বিক্রি হয়। নিকলী থানার ইনচার্জ এ,কে এম মাহবুব আলম সংবাদ প্রতিদিনকে জানান মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদেরকে গ্রেফতার করে থানায় মামলা ও ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!