জলের সাথে যেন আকাশের বন্ধন


রাজীব সরকার পলাশ, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) ।।

বাংলাদেশের অন্যতম হাওরবেষ্টিত জেলা হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জ। আর কিশোরগঞ্জের মধ্যে ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী হাওর এলাকা হিসেবে অন্যতম। যা ভ্রমণপিপাসু এবং দর্শনার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। যেখানে দৃষ্টিকাড়া বিপুল জলরাশির উথাল-পাথাল মনমাতানো ঢেউ হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়। ঢেউয়ের তালে তালে নৌকা চলছে আপন গতিতে। আবার কোথাও দেখা যায় ছোট ছোট নৌকায় জেলেরা জালের দড়ি ধরে টানছেন মাছের আশায়।

অষ্টগ্রামের অনন্য নিদর্শন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সেতু। এই সেতুর সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন দূর-দুরান্ত থেকে অনেকেই। সেতু পার হয়ে একটু সামনেই ছোট্ট গোছানো একটি ঘর। যেন কাগজে আঁকা কোন শিল্পীর ছবি।

ঘরটির চারপাশ পাকা। যেন নদী থেকে জেগে ওঠে দাঁড়িয়ে আছে ঘরটি। লম্বা পাকা বাঁধ নির্মাণের ফলে জলের ঢেউয়ের সাথে বাঁধের খেলা চলে দিনরাত। ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে বাঁধের দেয়ালে। কখনো নজর কাড়ে জলের সাথে শিশুদের জলকেলি উৎসব। কখনোবা দেখা যায় বিপুল জলরাশিকে আগলে ধরে রেখেছে অসীম আকাশ। চোখ যতদূর যায় যেন আকাশ নেমে গেছে জলরাশির মধ্যে।

কেউ কেউ নৌকা দিয়ে যাচ্ছেন তার আপন গন্তব্যে। ধীরে ধীরে সারিবদ্ধভাবে বালু, পাথর বা মালামাল বহনকারী জলের ওপর চলন্ত কার্গোগুলোকে দূর থেকে দেখে মনে হয় অনন্ত কাল ধরে তারা এভাবেই দাঁড়িয়ে আছে।

মিঠামইনে জন্মস্থান বাংলাদেশের ভাটির শার্দুল বর্তমান ২০তম মহামান্য রাষ্ট্রপতি এডভোকেট মোঃ আব্দুল হামিদ। মিঠামইনে নৌবাহিনীর নৌঘাঁটি তৈরি করা হচ্ছে আধুনিক মোড়কে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি পুত্র সংসদ সদস্য (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক অবহেলিত হাওর অঞ্চলকে আধুনিক রূপদানের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইটনায় নির্মাণ করেছেন ডুবোসড়ক এবং দর্শনীয় সেতু।

দ্রুতগতিতে চলছে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের মধ্যে স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের কাজ। হাওরের জলে ভেসে উঠে দিবারাত্রি ৪টি রূপের প্রতিচ্ছবি। সকাল, দুপুর, বিকাল ও রাতের বিচিত্র সমাবেশ। বিকাল ও পূর্ণিমার রাতের সোন্দর্য্য অত্যন্ত মনোমুগদ্ধকর। বিকালে ক্লান্ত ও ডুবন্ত সূর্যের আলোকচ্ছটা অপরূপ সোন্দর্য্যের মহিমা তৈরি করে। পূর্ণিমারাতে জলের ভেতর ডুবে থাকা চাঁদ যেন ঢেউয়ের সাথেই খেলা করছে।

কখনোবা নদীর পাড়ে চোখে পড়ে জল ও শিশুদের সাথে জলকেলি উৎসব। দর্শনার্থীদের প্রিয় তালিকায় রয়েছে নিকলী বেড়ি বাঁধ। যেখানে বিভিন্ন উৎসব বা ছুটিতে ঢল নামে দর্শনার্থীদের। সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বেড়িবাঁধ যেন মিনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। প্রতিবছরই নিকলীতে খুব বড় পরিসরে আয়োজন করে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। পুরো বর্ষাকাল জুড়েই থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়।

হাওরের এই বিচিত্র চিত্র উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন অনেক ভ্রমণপিপাসু মানুষ।