মুখশুদ্ধি সুপারির কিছু সুফল কুফল


আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

সুপারির ব্যবহার নেই এমন বাড়ি প্রায় পাওয়া যায় না। সুপারি খাওয়ার অভ্যাসের ইতিহাস দীর্ঘ দিনের। খাবার পর মুখশুদ্ধি হিসাবে সুপারির টুকরো মুখে রাখেন অনেকে। যারা পান খান তাঁরা পানের সাথে সুপারি ব্যবহার করেন। বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সুপারির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

পূর্বে বণিকেরা জলযানে করে এই ফলটি নিয়ে যেতেন বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহে বাণিজ্যের জন্য। তাই তাঁদের সফর সঙ্গীর নাম হয়েছিল ‘সফরী’। এই শব্দ থেকেই আজকের সুপারি নামটি এসেছে। এমনটাই মনে করেন আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য। আমাদের দেশে সুপারিকে গুয়া, পূগ ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।

ভারতবর্ষের পার্বত্য অঞ্চল বাদে সর্বত্র সুপারির চাষ হয়। বাংলাদেশে এবং পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপকভাবে এই গাছের চাষ করা হয়। এছাড়া এশিয়া মহাদেশের অনেক দেশেই সুপারির চাষ হয়।

সুপারি একবীজপত্রী উদ্ভিদ। এই গাছ সরু, লম্বা এবং শক্ত। কাণ্ড শাখা প্রশাখাহীন। গাছের উচ্চতা সাধারণত ২০-৩০ ফুট, তবে এর চেয়ে আরও লম্বা গাছ দেখা যায়। সুপারি গাছের পত্রের অবস্থান পরস্পরের বিপরীত। লম্বা পত্রদণ্ডের প্রান্তভাগে পাতার ফলকটি থাকে। পাতা লম্বা, শক্ত মধ্যশিরা যুক্ত। মধ্যশিরার দুই পাশ থেকে লম্বা লম্বা পাতা (পত্র ফলক) বের হয়।

পুস্পদণ্ডে বহু শাখাপ্রশাখা রয়েছে। গ্রামের মানুষেরা একে কাঁদি বলে। কাঁদিতে প্রচুর ফল ধরে। ফলগুলি কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে হলুদ, লাল বা কমলালেবু রঙের হয়ে যায়। ফলগুলি খোসাযুক্ত। আকারে গোলাকার অথবা ডিম্বাকৃতি। খোসা ছাড়ালে শক্ত সুপারি দেখতে পাওয়া যায়। সুপারি গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Areca catechu। গাছটি ‘এরেকেসি’ পরিবারভুক্ত।

বর্ষার সময় বীজ পুঁতে সুপারি গাছের চারা তৈরি করা হয়। সুপারির চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা।

ভেষজ হিসাবে ব্যবহার্য অংশ
ফল, ফুল, কাণ্ডের খোসা এবং শিকড়।

সুপারি গাছে প্রাপ্ত রাসায়নিক
সুপারি গাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পাওয়া যায়, এর মধ্যে এরেকলিন এবং এরেকাইডিন উল্লেখযোগ্য।

সুপারি খাওয়ার সুফল এবং কুফল
সুপারির এলকলয়েড দেহে এড্রেনেলিন ক্ষরণ করে, এর ফলে সুপারি খাওয়ার পর মনে তৃপ্তির ভাব আসে। সুপারিতে এরেকলিন থাকার সুবাদে অতিরিক্ত সুপারির ব্যবহার মুখের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

আয়ুর্বেদ/ ভেষজ ব্যবহার
ক) কুচো ক্রিমি দমনে এবং ক্রিমি সংক্রমণের উপসর্গ চিকিৎসায়
খ) রক্ত আমাশয় চিকিৎসায়
গ) অজীর্ণে
ঘ) ঘায়ে
ঙ) সংক্রমণজনিত দন্তরোগে
চ) দাঁতের পায়রিয়া রোগ দমনে এবং দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধে

তথ্যসূত্র : বৈজ্ঞানিকের দপ্তর-প্রতিবেশী গাছ-সুপারি [জয়ঢাক]

Similar Posts

error: Content is protected !!