২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপের ৩২ দল

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

ইটালি, নেদারল্যান্ডস, চিলি, যুক্তরাষ্ট্র, ঘানার মতো দেশ বাছাইপর্ব পেরোতে না পারলেও ৩২টি দেশ কিন্তু ঠিকই পেয়ে গেছে ২০১৮ বিশ্বকাপের টিকিট। চলুন দেখে নেয়া যাক, কোন ৩২টি দেশ থাকছে রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে…

স্বাগতিক রাশিয়া
আসরের আয়োজক হওয়ার সুবাদে সরাসরিই চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে রাশিয়া। এ নিয়ে একাদশ বার বিশ্বকাপে খেলছে রাশিয়া। স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা নিয়ে তারা এবার কতদূর যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ব্রাজিল
ব্রাজিলের আসলে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব থেকে বাদ পড়ার কোনো নজিরই নেই। এ পর্যন্ত ২১ বার বাছাই পর্ব খেলেছে, প্রত্যেকবারই চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছে গেছে সাম্বা ফুটবলের দেশটি। সেই ইতিহাস এবারও অটুট। দক্ষিণ অ্যামেরিকা অঞ্চলে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েই রাশিয়ার টিকিট কেটেছে নেইমারের দল। সবচেয়ে বেশি পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে একমাত্র ব্রাজিল। এবার তাদের সামনে ষষ্ঠ সাফল্যের সুযোগ।

স্পেন
২০১০ সালের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন পরের আসরে কিন্তু বিদায় নিয়েছিল প্রথম রাউন্ড থেকেই। সেই হতাশা দূর করতে এবার এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বাছাইপর্ব পেরিয়েছে ২০০৮ এবং ২০১২ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নেরা।

ফ্রান্স
জার্মানির কোচ ইওয়াখিম ল্যোভের মতে, এবারের আসরের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্স। ২০০৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা ‘গ্রুপ এ’ থেকে সহজেই উঠে এসেছে চূড়ান্ত পর্বে। গ্রুপটা কিন্তু সহজ ছিল না। মনে রাখতে হবে, এই গ্রুপ থেকেই বাছাই পর্ব পেরোতে ব্যর্থ হয়েছে নেদারল্যান্ডস!

পর্তুগাল
বয়স ৩২। ফলে রাশিয়াতেই হয়ত নিজের বিশ্বকাপটি খেলতে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। তাঁর নেতৃত্বে ২০১৬ সালে ইউরো জিতেছে পর্তুগাল। এবার কি বিশ্বকাপ…?

আইসল্যান্ড
২০১৬ সালের ইউরো থেকে ইংল্যান্ডকে বিদায় করেছিল তারা। এবার বিশ্বকাপে এসে কোন অঘটন ঘটায় কে জানে!

সার্বিয়া
২১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ডি-র শীর্ষে থেকেই বাছাইপর্ব শেষ করেছে তারা। ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেললেও পরের বাদ আবার বাদ পড়েছিল বাছাইপর্ব থেকেই। এবার তাদের সামনে প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখার সুযোগ।

নাইজেরিয়া
গ্রুপ বি থেকে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেছিল নাইজেরিয়া। পরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নও হয়েছে এর আগেও ছয়বার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা সুপার ঈগলরা।

জাপান
এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে গ্রুপ বি চ্যাম্পিয়ন হয়েই চূড়ান্ত পর্বে উঠেছে জাপান। এটি তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অভিযান।

জার্মানি
এই মুহূর্তে জার্মানি ফুটবল বিশ্বকে শাসন করছে বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না। বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা সর্বশেষ কনফেডারেশনন্স কাপ জিতেছে, আরো জিতেছে অনূর্ধ ২১ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। চারবারের বিশ্বকাপজয়ীরা এবারও কিন্তু ফেবারিট।

কোস্টারিকা
মধ্য অ্যামেরিকার দেশটি এবার বাছাইপর্ব পেরিয়েছে নাটকীয়ভাবে। রাশিয়ার আসরটি হবে তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ।

মেক্সিকো
এ নিয়ে মোট ১৬ বার চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পেল মেক্সিকো। দাপটের সঙ্গেই এবার কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্ব পেরিয়েছে তারা। দেখা যাক, ১৯৭০ এবং ১৯৮৬-র আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা মেক্সিকো এবার আরো উন্নতি দেখাতে পারে কিনা।

ইরান
ইরান যখন এশিয়া অঞ্চলের গ্রুপ এ চ্যাম্পিয়ন হলো, তখন শুধু স্বাগতিক রাশিয়া আর ব্রাজিলেরই চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত হয়েছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করার পথে একটি রেকর্ডও গড়েছে তারা। বাছাই পর্বে টানা ১২ ম্যাচে কোনো গোল খায়নি তারা। শেষ ম্যাচে সিরিয়ার সঙ্গে ড্র (২-২) ম্যাচেই শুধু গোল খেয়েছে দলটি।

ইংল্যান্ড
সেই ১৯৬৬ সালে একবার বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা। তারপর থেকে একবারও ফাইনালেই উঠতে পারেনি। এবার কি ‘কাগুজে বাঘ’-এর দুর্নাম ঘোচাতে পারবে ইংল্যান্ড?

সৌদি আরব
জাপানকে ১-০ গোলে হারিয়ে এশিয়া অঞ্চল থেকে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে সৌদি আরব। রাশিয়ার আসরটি হবে তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ।

দক্ষিণ কোরিয়া
সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ চূড়ান্ত পর্বে খেলা একেবারে নিয়মিত ঘটনা। এবার সহজেই তারা দশমবারের মতো চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত করেছে। ২০০২ সালে স্বাগতিক হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল এশিয়ার এই ফুটবল পরাশক্তি।

বেলজিয়াম
এডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুয়েন এবং ড্রিস ম্যার্টেনসদের নৈপুন্যে ইউরো অঞ্চলের গ্রুপ জি থেকে দু’ম্যাচ হাতে রেখেই চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে বেলজিয়াম। ২০১৪ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ‘রেড ডেভিলস’-দের কাছে থেকে এবারও আশাটা একটু বেশি।

মিশর
আলেকজান্দ্রিয়ায় ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে মো সালা গোল না করলে কঙ্গোর সঙ্গে ২-১-এ ম্যাচ জেতা হতো না, আর তাহলে হয়ত এবার বিশ্বকাপও খেলা হতো না মিশরের। ১৯৯০-এর পর এই প্রথম বিশ্বকাপ খেলবে মিশর।

পোল্যান্ড
সবাই জানেন, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্ডেসলিগা খেলেন পোল্যান্ডের রবার্ট লেভান্ডোস্কি। বায়ার্ন তারকা এবারের বিশ্বকাপেরও বড় তারকা। ভুলে গেলে চলবে না যে, তিনি ১৬ গোল করে ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাই পর্বের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কারণেই ১০ বছর পর আবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছে পোল্যান্ড।

আর্জেন্টিনা
মেসির হ্যাট্ট্রিকের সুবাদে ইকুয়েডরকে হারিয়ে বাদ পড়তে পড়তেও বাছাইপর্ব পেরিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ জয়ের পর কোচ সাম্পাওলি জানিয়েছিলেন, ‘‘আমি ছেলেদের বলেছিলাম, মেসির কাছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ পাওনা নয়, বরং ফুটবলের কাছেই বিশ্বকাপটা পাওনা মেসির।’’ দেখা যাক, কোচের কথা স্মরণ করে মেসিবাহিনী দেশকে তৃতীয় বিশ্বকাপ উপহার দিতে পারে কিনা।

পানামা
২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে অল্পের জন্য চূড়ান্ত পর্ব মিস করেছিল তারা। তবে এবার সেই যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করেই প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপে উঠে এসেছে পানামা।

কলম্বিয়া
২০১৪ বিশ্বকাপে নতুন তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা খামেস রডরিগেজকে আবার দেখা যাবে বিশ্বকাপে। পেরুর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচটি থেকে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে আনা গোলটি এসেছি তাঁর পা থেকেই।

উরুগুয়ে
ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম আয়োজক এবং প্রথম চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ অ্যামেরিকার এই দেশ। এবারের আসরটি তাদের ১৩তম বিশ্বকাপ।

টিউনিসিয়া
নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েই এবার পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করেছে টিউনিসিয়া।

মরক্কো
বাছাইপর্বে এবার কোনো ম্যাচ হারেনি মরক্কো। গ্রুপ সেরা হয়ে চূড়ান্ত পর্বে ওঠা আফ্রিকার এই দেশটির লক্ষ্য হবে ১৯৮৬ সালের অর্জনকে ছাড়িয়ে যাওয়া। সেবার নকআউট পর্বে উঠেছিল তারা।

সুইজারল্যান্ড
বাছাই পর্বটা সহজ ছিল না তাদের জন্য। প্লে অফ খেলতে হয়েছে তাদের। সেখানে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে একাদশবারের মতো চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড।

ক্রোয়েশিয়া
তারাও বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে প্লে অফ খেলে। সেখানে অবশ্য গ্রিসকে ৪-১ অ্যাগ্রিগেটে হারিয়েছিল তারা।

সেনেগাল
এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চূড়ান্ত পর্বে উঠলো সেনেগাল। প্রথমবার উঠেছিল ২০০২ সালে।

সুইডেন
সুইডেন চূড়ান্ত পর্বে এসেছে ইটালিকে বিদায় করে। তাদের কারণেই ১৯৫৮-র পর এই প্রথম বিশ্বকাপের বাইরে ইটালি। সুইডেনের জন্য এটি দ্বাদশ বিশ্বকাপ চূড়ান্ত পর্ব।

অস্ট্রেলিয়া
১৯৩০ থেকে ২০০২-এর মধ্যে যে দেশটি মাত্র একবার বিশ্বকাপ খেলেছিল, সেই অস্ট্রেলিয়া এবার টানা চতুর্থবারের মতো নিশ্চিত করেছে চূড়ান্ত পর্ব। প্লে অফে সিরিয়া এবং হন্ডুরাসকে হারিয়ে এই সম্মান অর্জন করেছে তারা।

ডেনমার্ক
১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০১০ সালের পর আবার চূড়ান্ত পর্বে ডেনমার্ক। তবে তাদেরও প্লে অফ খেলেই আসতে হয়েছে। সেখানে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম লেগ ০-০ ড্র হলেও, পরের লেগে পাত্তাই পায়নি আইরিশরা, তাদের ৫-১ গোলে উড়িয়ে চূড়ান্ত পর্বে উঠে এসেছে ডেনমার্ক।

পেরু
৩৫ বছর পর আবার বিশ্বকাপ চূড়ান্ত পর্বে পেরু। প্লে অফে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাছাইপর্ব পেরিয়েছে তারা।

সূত্র : যে ৩২টি দল থাকছে ২০১৮ বিশ্বকাপে  [ডয়চে ভেলে, ১৭ নভেম্বর ২০১৭]

Similar Posts

error: Content is protected !!