নারকেল ফলছে না, বিলুপ্ত হওয়ার পথে নারিকেল গাছ

আবদুল্লাহ আল মহসিন ।।

হাওরের জনপদ নিকলী উপজেলার নারিকেল গাছে এখন আগের মত নারিকেল ফলছে না। বিলুপ্ত হওয়ার আশংকায় রয়েছে উপজেলার অসংখ্য নারিকেল গাছ। এখানে সবার বাড়িতে, উঠোনে, পুকুর পাড়ে, খালে, নদীর তীরে উচু হয়ে ঠাই দাড়িয়ে থাকা সারি সারি নারিকেল গাছ সবার চোখে পড়ে।

narkel

উপজেলাবাসী নারিকেল দিয়ে বিচিত্র পিঠা তৈরিতে ব্যবহার করে, যেমন : নারকেল পুলি, ডোবা পিঠা, মালা পিঠা, নারিকেল তক্তি, নারিকেল সমুচা, নারিকেল গুড়া, নারিকেল চিড়াভাজা, নারিকেল আইসক্রিম প্রভৃতি মুখরোচক খাবার। বিভিন্ন রীতি ও আনুষ্ঠানিকতায় নারিকেল অনুসঙ্গ হয়ে ওঠে। নতুন জামাই বিয়ে করতে গেলে বৌ-এর মার জন্য বরের পক্ষ থেকে বিয়ের সালোয়াবাজের সাথে নারিকেলও নেয়া হয়।

নারিকেল গাছে প্রথম পর্যায়ে ফুল হয়। সাধারণত বর্ষাকালে ভেজা আবহাওয়ায় এর ফুল ফোটে। তার পর ছোট আকারে নারকেল হয়। একটু বড় হলেই তখন তাকে ডাব বলে। ডাবের পানি সুমিষ্ট এবং ঔষধি গুনসম্পন্ন। হাওর ও নদী এলাকার নরম মাটি নারকেল গাছের জন্য খুব উপযোগী বলেই নিকলীতে নারকেল গাছ বেশি হয়। এক সময় এখানকার ডাব-নারিকেল নৌকা ভরে দেশের বিভিন্ন শহরে চালান করা হত। কিন্তু গত দুই তিন বছর যাবত এখানে আশানুরূপ নারিকেল ফলছে না। বাইরেও আগের মত চালান করা যায় না।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নারিকেল চাষিদের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হলে বেশিরভাগ চাষী নারিকেলের ভাল ফলন না হওয়ার জন্য কয়েকটি কারন উল্লেখ করেন। সিংপুর ইউনিয়নের জহিরউদ্দীন জানান, আমার বাড়ির নারিকেল গাছে প্রচুর ফুল ধরে। কিন্তু ঝরে পড়ে। দামপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, নারকেল গাছে ডাব বড় হলেও ভিতরে পানি থাকছে না, বন্ধা নারিকেল হয়। নিকলী সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা কারার খোকন বলেন, বড়পুকুর পাড়ের নারকেল গাছ থেকে ২ বছর যাবত ১০ টাকার নারকেলও বিক্রি করতে পারছি না। এখানকার পুরাতন নারিকেল গাছের আগা ক্রমশ চিকন হয়ে অবশেষে মাথা ভেঙ্গে পড়ছে। বজ্রপাতের কারণেও অনেক নারিকেল গাছ নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষি গবেষকরা বলছেন, অতিখরা, বৃষ্টিহীনতা আর জলবায়ুর প্রভাবেই নারকেল গাছে নারকেল ফলছে না। আবহাওয়ার বৈশ্বিক পরিবর্তন নারিকেল গাছেও প্রভাব সৃষ্টি করছে। গ্রামীণ পর্যায়ে অপরিকল্পিত মোবাইল টাওয়ার স্থাপনে উচু গাছের সমস্যা হওয়ার মত দিয়েছেন অনেকে। মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর অদৃশ্য রশ্মির কারণে নারিকেল গাছ ক্রমশ দুর্বল হয়ে ফল ধারণক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

এ ব্যাপারে নিকলী সদর ইউনিয়ন কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আবদুল করিম আমাদের নিকলীকে জানান, নারকেল গাছে ফল না ধরার কারণ হলো ক্ষতিকারক মাকড়জাত পোকার আক্রমণ। তিনি এজন্য কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন। তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, কীটনাশক স্প্রে ঝুঁকিপূর্ণ এবং শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *