ঘুমের কারণে বাড়ছে আপনার ওজন

সঠিক পরিমাণে খাওয়া, জিমে যাওয়া কিংবা ব্যায়াম করা এবং ডায়েটিংএর পরও অনেকের ওজন বাড়তে দেখা যায়। অনেকেই ভাবেন এটি অকারণেই হচ্ছে। আবার অনেকের ধারণা এটি হরমোনের সমস্যা। হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য বজায় না থাকলে ওজন বাড়তে দেখা যায়। কিন্তু ওজন বাড়ার ক্ষেত্রে যে জিনিসটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তা হচ্ছে ঘুম কম হওয়া। আপনার এতো সচেতনতার পরও যদি আপনার ওজন বাড়তেই থাকে তাহলে নিজের ঘুমের সময়ের দিকে নজর দিন।

গবেষকদের মতে ঘুম কম হলে তা আমাদের দেহে ক্ষুধার উদ্রেক করে। যার কারণে আমাদের অপরিমিত খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। যার ফলে আমরা মোটা হতে থাকি। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের হিউস্টনের বেলর কলেজের বিজ্ঞানীরা ২৫০ তরুণ-তরুণীর ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখতে পান যারা দৈনিক ৮ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের ক্যালরি গ্রহন অন্যান্যদের চাইতে অনেক বেশি হয়। কারণ রাতে ঘুম কম হলে বেশীরভাগ মানুষই কিছুটা খাবার গ্রহন করেন যা একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয় এবং বেশিরভাগই থাকে উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ। ফলে তাদের ওজন বাড়তে থাকে।

এছাড়াও ২০০৬ সালে প্রায় ৬ হাজার মানুষের উপর বেশ বড় একটি সময় ধরে গবেষনা করে গবেষকরা দেখতে পান যারা রাতে পাঁচঘন্টার কম ঘুমান তাদের ওজন বৃদ্ধির হার যারা প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান তাদের চাইতে প্রায় ৫.৫ পাউন্ড বেশি। এর কারণ হচ্ছে ঘ্রেলিন ও ল্যাপ্টিন নামক দুটি হরমোন।

গবেষণায় দেখা যায় ঘুমের তারতম্য দেহে ল্যাপ্টিনের নিঃসরন কমিয়ে দেয় এবং ঘ্রেলিনের নিঃসরন বাড়িয়ে দেয়। এই ঘ্রেলিন ক্ষুধা অনেক বেশি বাড়িয়ে তোলে এবং ল্যাপ্টিন কমে যাওয়ায় মস্তিষ্কে সংকেত যায় আপনি অনেক ক্ষুধার্ত। ফলে অনেক খাবার খেয়েও পেট ভরে না। এতে করেই ওজন বেড়ে চলে।

তাই যদি অনেক কিছু করার পরও আপনার ওজন প্রতিনিয়ত বাড়তেই থাকে তবে নিজের ঘুমের দিকে নজর দিন। হতে পারে আপনি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ঘুমাচ্ছেন। এর ফলেই বাড়ছে আপনার ওজন। নিয়ম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেই সাথে ওজন সংক্রান্ত সকল রোগ থেকেও মুক্তি পাবেন।