করিমগঞ্জে খুন হলো সন্তান, পরিবার বাড়িছাড়া

বিশেষ প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ ।।

করিমগঞ্জে একটি পরিবারের সন্তানকে খুন করা হলেও উল্টো পরিবারটি এখন বাড়িছাড়া বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারসহ স্বজনদের ৬টি পরিবারের ৮০ জন সদস্য এখন বাড়ি ছেড়ে শহরের বিভিন্ন আত্মীয় এবং ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। শনিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রেস ক্লাবে ভিকটিম পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে করিমগঞ্জের দেওপুর কাজলাহাটি গ্রামের আব্দুর রউফ আলফাতুন (৭০) ও তার স্বজনরা জানান, আলফাতুনের ভাই আজিজুল হকের ছেলে আব্দুল্লাহ বিন-ইহাদকে (১৮) গত বছর ২৩ মে দুপুরে পার্শ্ববর্তী নিয়ামতপুরের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে প্রান্ত (২০), কবির উদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম (৩২), নূরু মিয়ার ছেলে লিমন (২৮), কাজলের দুই ছেলে জামরুল (৩২) ও ইজাজুল (২৬) ডেকে নিয়ে যান। কিন্তু রাতের বেলায়ও ইহাদ বাড়ি ফিরেননি।

ফলে খোঁজাখুজি করে পরদিন বিকালে স্বজনরা পার্শ্ববর্তী তাড়াইলের মাগুড়ি হাওরে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ পান। নিহতের মাথা ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা ললিতা বেগম বাদী হয়ে তাড়াইল থানায় উপরোক্ত ৫ জনসহ এলাকার ফেরদৌস মিয়ার স্ত্রী পারভীন সুলতানা (৫৭) ও অন্যান্য অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ দেওপুর কাজলাহাটি গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে সৈয়দ আলী (৩০) নিয়ামতপুর বাজারে খুন হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় ইহাদকেও আসামি করা হয়েছিল। এর জের ধরে ৩৫টি ঘরের মালামাল ও নিয়ামতপুর বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করা হয়, তিনটি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ মামলায় ইহাদ জামিন নিয়ে বাড়ি আসার কিছুদিন পরই তাকে ডেকে নিয়ে খুন করা হয়। এখন ৬টি পরিবারের ৮০ জন সদস্য কিশোরগঞ্জ শহরে আশ্রয় নিয়ে আছেন, হুমকিতে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। তারা বাড়ি ফেরার পরিবেশ ও নিরাপত্তা চান।

ইহাদ খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এসআই নজরুল ইসলাম জানান, তার তদন্তে ইহাদকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের কাজও সম্পন্ন হয়ে এসেছে। কিছুদিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেয়া সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করছেন। ইহাদ হত্যা মামলার আসামি পারভীন সুলতানা (৪৭) জানান, তার ভাই সৈয়দ আলীকে (৩০) হত্যার ঘটনায় ইহাদসহ তার স্বজনদের কয়েকজনকে আসামি করে তিনি করিমগঞ্জ থানায় মামলা করেছিলেন। এর হাত থেকে বাঁচতেই ইহাদ হত্যা ও বাড়িঘরে হামলার জন্য পারভীনদের দায়ী করা হচ্ছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।

Similar Posts

error: Content is protected !!