ভেষজ গুণে পূর্ণ অবহেলিত বরুণ

বরুণ। প্রচলিত ভাষায় বৈন্যা। বড় জাতের বরুণ মানে বৃক্ষের পরিধি ও উচ্চতা ছোট জাত থেকে বেশ বড়। সাধারণত একটু নিচু জায়গায় জন্মে। বসন্তকালে সাদা ও হালকা হলুদ ফুলের উচ্ছাস দেখতে পাওয়া যায় গাছ ভর্তি। পাতা বড় একটা দেখা যায় না তখন। দূর থেকে দেখতে অনেকটা আমেরিকার Dog wood-এর মত মনে হবে। ফুলের তেমন কোন গন্ধ নেই। বসন্তকালে পুষ্পাবৃত গাছ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে।

Borun-ful+c

বর্ষাকালে দেখা যায় ফল, অনেকটা কতবেলের মতো। তবে ফলকে কেউ তেমন একটা পাত্তা দেয় না; তার গন্ধটা বেশ তীর্যক হওয়ায় পছন্দ করে না অনেকেই। তবে ফলে আছে বেশ কিছু ঔষধিগুণ। এতে আছে বিটাস্থেরোল, ট্রাইয়াকন্‌টান্‌ল, রক্তদোষ ও ওর্শ রোগের এক উপকারী ওষুধ। ছাল ও পাতায় আছে ডাইনোজিলিন, লুপিওল, রুটিন ও কুয়ারসিটিনি। এসব পদার্থের সন্মিলিত প্রভাব মুত্রনালি রোগে উপকারী। কিডনি ও ব্লাডারের পাথর দূর করতে সাহায্য করে। পাতা গরম করে সেঁক দিলে গিঁটবাতের ব্যথা অনেকটা সেরে যায়।

বরুণের বেশ কটা সম্বলকৃত নাম আছে। যেমন: শ্বেতপুষ্প, কুমারক, সাধুবৃক্ষ, শ্বেতদ্রুম, মহাকপিথা, মারুতাপহ। অতি প্রাচীনকাল থেকেই বরুণ এক ভেষজ গাছ হিসেবে পরিচিত। অর্থব বেদে এর উল্লেখ আছে। চরক ও সুশ্রুত গুণগান করে অনেক কথা উল্লেখ করেছেন। এমনকি পাশ্চাত্যেও খ্রিষ্টপূর্ব এক শতাব্দীতে এক ভেষজ পন্ডিত Crataeva বরুণের ছাআল নিয়ে অনেক পরীক্ষা করেছেন। সে জন্য এর গুনের নাম Crataeva ।

-ডঃ নওয়াজেশ আহমদ

সূত্র : kishorgonj.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *