নিকলীতে মুরুব্বিদের শখে কিশোর-কিশোরীর বিয়ে, অতপর…

বিশেষ প্রতিনিধি ।।

মুরুব্বি, আত্মীয়-স্বজনের শখের বশে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে কিশোর-কিশোরীর বিয়ে দেয়া হয়েছে। ৬ মাস ঘর-সংসারের পর যৌতুকের দাবিতে অস্বীকার করা হচ্ছে বিয়ে। নালিশ, সালিশে দিশেহারা এখন কিশোরী বধূ ও তার পরিবারটি।

জানা যায়, নিকলী উপজেলার পার্শ্ববর্তী বাজিতপুরের কৈলাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা কাজল মিয়ার মেয়ে মোছাঃ ফারজানা আক্তার ফারসিয়া (১৬) ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে মায়ের সাথে নানাবাড়ি ছাতিরচর বেড়াতে যায়। নানা-নানী আর মুরুব্বি আত্মীয়-স্বজন শখের বশবর্তী হয়ে পিতা কাজল মিয়ার অনুপস্থিতিতে ফারসিয়ার মামাতো ভাই মো. রাকিব মিয়ার (১৯) সাথে ফারসিয়ার মৌখিক বিয়ে দেন।

বিয়েতে রাকিবের দাদা মরম আলী (৬০), চাচাত দাদা তৈয়ব আলী (৫৫), একই সম্পর্কের অ্যাডভোকেট শাহজাহান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য আশরাফ উদ্দিন (৪৫), বাবা মিতাল মিয়া ওরফে রেনু মিয়াসহ (৫০) আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পরদিন কাজল মিয়া উপস্থিত হলে আত্মীয়রা তাকে এই বলে আশ্বস্ত করেন যে, প্রাপ্তবয়স্ক হলে ২ লাখ টাকা দেনমোহরে দু’জনের কাবিননামা সম্পাদন হবে। ২০১৭ সালের মার্চ মাসের ১০ তারিখে রাকিবের পরিবার কিশোরী বধূ ফারসিয়ার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। পিতা কাজলের অবস্থা বিবেচনায় ফারসিয়া যৌতুক সম্ভব নয় বলে জানায়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়।

ফারসিয়ার পরিধেয় অলঙ্কারাদি রেখে তাকে শশুরবাড়ি থেকে বের করে দেয় স্বামীপক্ষ। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নালিশ সালিশ শুরু হয়। অবশেষে বিগত বছরের ডিসেম্বরের ৩ তারিখ কাজল মিয়ার কৈলাগের বাড়িতে আত্মীয় মুরব্বি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পাত্রপক্ষ ২ লাখ টাকা কাবিননামা ১৫ ফাল্গুন ১৪২৪ সালে সম্পাদন করবে বলে ১শ’ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হন।

কিন্তু অদ্যাবধি কাবিন সম্পাদন বা ফারসিয়াকে স্বামীর বাড়িতে নেয়ার কোনো লক্ষণ নেই; উপরন্তু ফারসিয়ার সাথে রাকিবের বিয়ের বিষয়টিও অস্বীকার করা হচ্ছে বলে পিতা কাজল মিয়া জানান। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সুরাহার জন্যে নিকলী, বাজিতপুর উভয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নিকলী থানায় অভিযোগ দিয়েছি। অনেকে আমাকে নাবালিকাকে বিয়ে দেয়ার দোষে সাজার ভয় দেখিয়েছে। কোনো সুরাহা দেয়নি। অপরাধ যদি হয়েই থাকে সে আমার। এর সাজা আমার মেয়ে ভুগবে কেন?

বিয়ের আসরে উপস্থিত থাকা রাকিবের চাচাত দাদা তৈয়ব আলী বলেন, আত্মীয়তা জোরদারেই ফারসিয়া আর রাকিবের বিয়ে দেয়া হয়েছিলো। এখন রাকিবের পরিবার নানা তালবাহানা শুরু করে সম্পর্কটা ভাঙতে চাইছে।

বর্তমানে কেরানীগঞ্জের কামরাঙ্গিরচরে স্বপরিবারে বসবাসরত রাকিব মিয়ার সাথে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে রাকিব প্রথমে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তার মা ছামিনা আক্তারকে ফোন ধরিয়ে দিলে তিনি জানান, ফারসিয়া আমার আপন ননদের মেয়ে। স্বপ্ন নিয়েই ছেলেকে বিয়ে করিয়েছিলাম। সে দুশ্চরিত্র ও ঝগড়াটে। তার সাথে আমার ছেলের জীবন কাটবে না।

ভুক্তভোগী কিশোরী বধূ ফারসিয়া