“চারবেলা খাবার নিশ্চিত করতেই আফ্রিকা থেকে ইউরোপে!”

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে ‘আফ্রিকান’ এক দেশ! কথাটি বললে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে বলা হবে, না ফ্রান্স। কিন্তু পুরো বিষয়টি জানা থাকলে ফ্রান্সকে ‘আফ্রিকান দল’ হিসেবে মেনে নেওয়া যেতেই পারে। কারণ দলটির ২৩ সদস্যের ১৪ জনই আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। অঙ্কের বিচারে যা প্রায় ৭৯ ভাগ। শুধু ফ্রান্সই নয়, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লেখানো ইংল্যান্ড ও বেলজিয়াম দলেও আছে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফুটবলার। এ নিয়েই খেপেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

ফ্রান্স দলে আফ্রিকার মোট এগারোটি দেশের বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় আছে। মোদ্দা কথা, আলজেরিয়া, ক্যামেরুন, কঙ্গো, সেনেগাল, নাইজেরিয়া থেকে আসা ফুটবলারদের হাতেই ফরাসি পতাকা। যে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে এত মাতামাতি, তাঁর জন্ম ফ্রান্সে হলেও বাবা ক্যামেরুনিয়ান ও মা আলজেরীয়। আরেক তারকা ফুটবলার পল পগবার কথা বলবেন? তাঁর বাবা-মা দুজনেই এসেছেন আফ্রিকার গিনি থেকে।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লেখানো অন্য দুটি দেশ ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামেও আছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়। ফ্রান্সের তুলনায় সংখ্যাটা কম হলেও একেবারে ফেলনা নয়। দু দল মিলিয়ে যা প্রায় ৪৮ ভাগ। আফ্রিকার ফুটবলারদের এভাবে ইউরোপিয়ান দলগুলোতে নাগরিকত্ব নিয়ে খেলার বিষয়েই খেপেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির কাছে বিষয়টি আফ্রিকান ফুটবলারদের মূল্য বোঝানো ও দিনে চারবেলা খাবারের ব্যবস্থা করার সুযোগ।

গোটা ব্যাপারটিকে ‘মাফিয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছেন ম্যারাডোনা, ‘আফ্রিকান খেলোয়াড়কে জাতীয়করণের জন্য ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়। আর এতে খেলোয়াড়েরাও সম্মত হয়। কারণ তারা উন্নত জীবন যাপনের সুযোগ পায়। সঙ্গে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ ও দিনে চারবেলার খাবারের নিশ্চয়তা তো আছেই।’ আগে এগুলো দেখা যেতো না বলেও জানিয়েছেন ম্যারাডোনা।

ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ছবি: রয়টার্স

সূত্র : এমবাপ্পে, পগবাদের নিয়ে এ কী বললেন ম্যারাডোনা!  [প্রথম আলো, ৯ জুলাই ২০১৮]