কোন্দলে নিকলী বিএনপির বর্ধিত সভা পণ্ড, পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারাদেশ!

বিশেষ প্রতিনিধি ।।

আভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিকলী উপজেলা বিএনপির শনিবারের (১৪ জুলাই ২০১৮) আহূত বর্ধিত সভা পণ্ড হয়ে গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পক্ষ দু’টি আলাদাভাবে পরস্পরকে বহিষ্কার ঘোষণার বিষয়টি টক অব দ্য উপজেলায় পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, নিকলী উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আহূত বর্ধিত সভার শনিবার ছিলো নির্ধারিত তারিখ। দলীয় চিঠি, ফেসবুক প্রচারণায় স্থান নির্ধারণ হয় পুরান বাজারের শিমুল শপিং কমপ্লেক্সের দোতলায়। সময় সকাল ১০টা। সভার বিষয় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনে পদাকাঙ্ক্ষীদের পরিচিতি, মতামত, সাংগঠনিক আলোচনা ও বিবিধ।

আলোচনাকালীন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. কফিল উদ্দিন আহম্মেদ, যুবদল সভাপতি প্রার্থী কারার ইখতিয়ার আহম্মেদ আরিফ পক্ষটির সাথে উপজেলা বিএনপি সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু, সম্পাদক আবু সাঈদ পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে সভাটি পণ্ড হয়ে যায়। পরে দু’পক্ষই আলাদা সমাবেশ করে।

নিকলী উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহ-সম্পাদক হেলিম তালুকদার জানান, প্রশাসন থেকে শুধু সভার অনুমতি ছিলো। উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. কফিল উদ্দিন ও যুবদল সভাপতি প্রার্থী কারার ইখতিয়ার আহম্মেদ আরিফ পরিকল্পিতভাবে সভাটি পণ্ডের উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারসহ মিছিল নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হয়। যা সম্পূর্ণ অসাংগঠনিক।

কারার আরিফ জানান, যাদেরকে তারা ছাত্রলীগ বলছে তারা আমার ভাই, ভাইস্তা। তারা আমার ওপর আক্রমণ করলে আত্মীয়-স্বজন আছে যেহেতু আসতেই পারে।

ডা. কফিল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, স্থান ছিলো শিমুল শপিং কমপ্লেক্স। অসৎ উদ্দেশ্যে তারা আমাদের না জানিয়ে সভাপতির বাড়িতে সভা শুরু করে। আমরা ঢুকতে গেলে কতিপয় যুবকরা আমার সাথে থাকা উপজেলা বিএনপির পদ পদবিধারী নেতাদের ঠেলা-ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। আমরা অযোগ্য সভাপতি ও সম্পাদককে বহিষ্কার ঘোষণা করেছি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু জানান, শিমুল শপিং কমপ্লেক্সের নির্মাণ সংক্রান্ত জটিলতায় আমরা সকলের মতামতে আগের দিনই স্থান পরিবর্তন করি। ডা. কফিল ও কারার আরিফ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সংগঠনের ক্ষতি করতে চাচ্ছে। ডা. কফিলকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে সর্বসম্মতিক্রমে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন ভূইয়া জানান, পুলিশ সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই অভিযোগ আসেনি।