হাটহাজারীতে পৃথক ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু

মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ।।

হাটহাজারী উপজেলাধীন ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের আব্বাস তালুকদার বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ সহোদয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে ফতেপুর ইউনিয়নের আলাওল দিঘীর পাড় এলাকায় এক গৃহবধূ আত্মহত্যা ও উপজেলা নাজিরহাট কলেজের পিছন থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পৃথক পৃথক ঘটনায় ৪ জন নিহত হয় বলে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়।

হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছে। রোববার (১৫ জুলাই ২০১৮) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফরহাদাবাদে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নজরুল ইসলাম (৪০) ও সাইদুল ইসলাম (প্রকাশ) রোকেল (২৬)। নিহত দু’জনই ওই এলাকার আব্বাস তালুকদার বাড়ির আবু আহম্মদের পুত্র। এ ঘটনায় শ্রমিকসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

উপজেলার পশ্চিম ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের আবু আহম্মদের বাড়িতে পাকাঘরের কাজ করছেন শ্রমিকরা। এসময় বাড়ির ছাদের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। হঠাৎ এক শ্রমিক (রাজমিস্ত্রি) বিদুৎস্পৃষ্ট হন। তখন তাকে উদ্ধার করতে গেলে দুই ভাই নজরুল ও সাইদুল বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে উপস্থিত লোকজন তাদের উদ্ধার করে নাজিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ জহির বলেন, বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে।

এদিকে রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার নাজিরহাট এলাকা থেকে মোঃ শাহ আলম (১৭) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। সকাল সাড়ে ১০টায় নাজিরহাট কলেজের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। কিশোরগঞ্জ এলাকার ফুল মিয়ার পুত্র শাহ আলম। ওই এলাকায় পরিবারের সাথে ভাড়া বাসায় থাকতো কিশোর শাহ আলম।

পুলিশ জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাজিরহাট কলেজের পেছনে একটি ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের এসআই তানজির হোসেন সংগিয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের এসআই তানজির হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে কিশোরটির লাশটি উদ্ধার করি। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে জানতে পারবো এটি আত্মহত্যা নাকি কেউ তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অপরদিকে হাটহাজারী ফতেপুর নিজ বাড়িতে রিমা আকতার (২৩) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৪ জুলাই) রাতে বাপের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জের ধরে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে স্ত্রী রিমা আকতার রাগান্বিত হয়ে হঠাৎ ঘরের পাশের রুমে গিয়ে দরজা আটকিয়ে ঘরের সিলিংয়ের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে পড়েন। কিছুক্ষণ পরে পরিবারের সকলে তাকে ডাকতে লাগলে তার সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে তার ঝুলন্ত শরীর দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে তার ছোটভাই স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে আসে। অবস্থার অবনতি দেখতে পেলে তাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ রিনা আকতার মারা যায় বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। এদিকে, স্বামীসহ গত ৫ দিন আগে শশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে বেড়াতে এসে একেবারেই পরপারে চলে যাওয়ায় পরিবার হতাশায় ভুগছে।

পরিবারের দাবি বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য তাকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করত। নিজ বাড়িতে এসেও স্বামীর সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে পাশের রুমে গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে তার পরিবার জানান। নিহত রিনার সংসারে ১ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তার স্বামী মিনহাজ একজন সিএনজিচালক। গড়দুয়ারা ইউনিয়ন আবছার চেয়ারম্যানের বাড়ি ও নিহত রিনা ফতেপুর ইউনিয়নের আলী আহম্মদ মাস্টারের বাড়ির হারুনের মেয়ে।