করিমগঞ্জ-তাড়াইলে আ’লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী মনিরুজ্জামান নয়ন

বিশেষ প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ ।।

জাতীয় পার্টির দখলে থাকা কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ ও তাড়াইল) আসন থেকে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন দলটির ঢাকা মহানগরের নেতা তরুণ ব্যবসায়ী খন্দকার মো: মনিরুজ্জামান নয়ন। মনোনয়ন পেতে তিনি গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে করছেন পথসমাবেশ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা। উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন দুই উপজেলার নেতাকর্মীদের। এ ছাড়াও ‘করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলায় নৌকাসহ নয়ন ভাইকে চাই’, ‘আর নয় লাঙ্গল এবার নৌকায় ভোট দিতে চাই’ ইত্যাদি স্লোগান সংবলিত শত শত ব্যানার ও পোস্টার দুই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, নৌ-ঘাট ও জনবহুল স্থানে তার সমর্থকদের দিয়ে সাঁটিয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরও নজর কাড়ছে এসব।

এ আসনে বর্তমানে এমপি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মো: মুজিবুল হক চুন্নু। সরকারে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, গত দু’টি নির্বাচনে পরপর এ আসনটি জাতীয় পার্টির জন্য ছেড়ে দেয়ায় তাদের দল (আওয়ামী লীগ) এখানে অস্তিত্ব সংকটের পথে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ‘মুজিবুল হক চুন্নু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর নানাভাবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হয়রানি করা শুরু করেন। তাদেরকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করেন।’

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের নেতা, করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল গ্রামের বাসিন্দা তরুণ ব্যবসায়ী খন্দকার মনিরুজ্জামানের মনোনয়ন তৎপরতা এ আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে।

এ বিষয়ে মনিরের সঙ্গে সবসময় নির্বাচনী প্রচারণায় থাকা তাড়াইল উপজেলার সাচাইল ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো: জুয়েল মিয়া বলেন, ‘দেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা ক্ষমতায় থাকলেও করিমগঞ্জ-তাড়াইলে আওয়ামী লীগ কোণঠাসা হয়ে আছে জাতীয় পার্টির কারণে। আমরা আমাদের দলীয় প্রতীক ভুলতে বসেছিলাম। মনিরুজ্জামান ভাইয়ের তৎপরতায় আমরা সাহস ফিরে পাচ্ছি।’

মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসায়িক কারণে ঢাকায় থাকলেও এলাকার টানে বারবার আসি। বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। গত বছর হাওর এলাকায় ব্যাপক ফসলহানির পর ঢাকা থেকে এলাকার ফসলহারা কৃষকদের জন্য ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এসেছি।

তিনি আরো বলেন, আমি এলাকার মানুষের সেবা করতে চাই। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে দলের মনোনয়ন চাইবো। এলাকার জনগণ নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে চায়। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রাণ ফিরে পাবে। নির্বাচনে আমি বিজয়ী হতে পারবো।’