নিকলীতে ঠিকাদারদের চাপাচাপিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ স্থগিত!

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীতে ঠিকাদারদের তোপের মুখে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’র কাজ স্থগিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইয়াহহিয়া খান। অনিশ্চয়তায় ভুগছে সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবারগুলো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)’র কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীন নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর ১০ই মে ২০১৬ খ্রি. তারিখে প্রকল্পটির পরিচালক স্বাক্ষরিত ০৩.৭০২.০১৪.০০.১০২৮.২০১৫-১১৬(ক) নং স্মারকে উপজেলায় ‘যার জমি আছে ঘর নেই’ এমন সব দরিদ্রদের নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ করে দেয়ার তালিকা চাওয়া হয়।

ওই সময় দায়িত্বরত ইউএনও মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন মাহবুব সেই মোতাবেক ইউপি চেয়ারম্যানদের সহায়তায় তালিকা তৈরি করে প্রেরণ করেন। বর্তমান ইউএনও’র কার্যকালেও একাধিক বার চাহিত তালিকা প্রেরণ করা হয়। অজ্ঞাত কারণে পাঠানো তালিকার একটিরও অনুমোদন মেলেনি।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১০ই মে ০৫.৪১.৪৮৭৬.০০০.০৬.০০৬.১৬-৩৩২ নং স্মারকে পুনঃতালিকা চাওয়া হয়। একাধিকবার দেয় তালিকা অনুমোদিত না হওয়ায় তৃণমূলের তালিকাদাতাদের মধ্যে উদাসীনতা কাজ করে। বাধ্য হয়ে ইউএনও মোহাম্মদ ইয়াহহিয়া খান সরজমিনে ঘুরে ৪৬০ জনের একটি এবং সিংপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত হাওর গ্রাম টেঙ্গুরিয়ার জন্য ৫৬টি নিয়ে মোট ৫১৬ জনের তালিকা প্রেরণ করেন।

প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবুল কালাম শামসুদ্দিন কর্তৃক ৩৫৬ জনের নাম অনুমোদিত হয়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ১ লাখ টাকা করে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে। পরিপত্র মোতাবেক ইউএনওকে আহ্বায়ক, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাকে (পিআইও) সদস্য সচিব, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী-এলজিইডি এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে সরাসরি ক্রয় কমিটির নির্দেশনা দেয়া হয়। সে মোতাবেক গত ১২ই জুলাই ঘর নির্মাণের সামগ্রী কেনা ও উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে খুঁটি নির্মাণ শুরু করে কমিটিটি। ২শ’ খুঁটি নির্মাণ হতেই গত ১৮ই জুলাই ইউএনও মোহাম্মদ ইয়াহহিয়া খান অনির্দিষ্ট কালের জন্য কাজ বন্ধ করে দেন। সুবিধাপ্রাপ্য পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা নেমে আসে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইয়াহহিয়া খান মানবজমিনকে জানান, যদিও টেন্ডারযোগ্য অঙ্কের কাজ, তথাপি সংশ্লিষ্ট মহলের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোনো ক্ষমতা আমার নেই। কিন্তু কতিপয় স্থানীয় ঠিকাদারগণ টেন্ডার দিয়ে তাদের মাধ্যমে কাজ করানোর চাপাচাপি শুরু করে। কাজ বন্ধ রাখতে আমাকে বাধ্য করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত। আশা করি শিগগিরই কাজ চালু করতে পারবো। অন্যথায় টাকা ফেরত পাঠানো ছাড়া উপায়হীন। নিম্ন মানের কাজের দায় কে নেবে?

সূত্র : মানবজমিন, ২৭ জুলাই ২০১৮