শিবগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন : বিলীন হচ্ছে জমি নার্সারী ঘরবাড়ি

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি ।।

বগুড়ার শিবগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ৫০ বিঘা আবাদী জমি, একটি প্রতিষ্ঠিত নার্সারী ও ঘরবাড়ি বালুগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে এবং রোববার বালু পয়েন্টে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিবগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামে একই এলাকার খাজা মিয়া ও তার ভাই হাসান উদ্দিন কয়েক বছর যাবৎ ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। দীর্ঘ দিন যাবৎ এই বালু উত্তোলনের ফলে আশেপাশের বিঘার পর বিঘা আবাদী জমি, নার্সারী এবং ঘরবাড়ি বালুগর্ভে বিলীন হয়েছে। মাত্র কয়েক কাটা জমির মধ্যে প্রথমে বালু উত্তোলন শুরু করে বর্তমানে তা বিশাল এরিয়া নিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী বলেন, বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয় না; বরং তাদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এ দিকে এই বালু উত্তোলনের ফলে চারপাশের জমিগুলো বালুর মধ্যে বিলীন হওয়ায় জমির মালিকগণ বাধ্য হয়ে বালু উত্তোলনকারীদের কাছে কমমূল্যে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কারণে কয়েক কাঠা জমি থেকে আজ কয়েক একর জমি হয়েছে।

বর্তমানে আরও ৫০ বিঘা আবাদী জমি, একটি প্রতিষ্ঠিত নার্সারী এবং একটি পাড়ার ঘরবাড়ি বালুগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশের আবাদী জমি যমুনার ভাঙ্গনের মতো ভেঙ্গে বালুগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নার্সারীর অনেক জমিও বালু পয়েন্টে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন বলেন, ২০১০ সালে সাথী নার্সারীর ১০-১২ লাখ টাকার চারাগাছ নষ্ট হওয়ায় সেই সময় নার্সারীর মালিক মাহফুজার রহমান বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত বালু তোলা বন্ধের আদেশ প্রদান করলেও তা এখন পর্যন্ত উত্তোলন অব্যাহত আছে। গত রোববার বালু পয়েন্টে ৫ গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

গ্রামবাসীর পক্ষে দেলবর হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার হয়নি। কোন কোন সময় সাময়িকভাবে বন্ধ করলেও পরে আবার পুরোদমে বালু উত্তোলন শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে তাদের আবাদী জমিগুলো রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। এসময় পানাতেপাড়া, লয়াপাড়া, চাউলাপাড়া, নাটমরিচাই সহ আশেপাশের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে মাহবুর, হোসেন, রুস্তম, এনামুল, রেজ্জাকুল, রেজাউল, ছানোয়ার, শাখাওয়াত জানান, এই বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে। কাজীতলা গ্রামের শুটকু বলেন, আমার ১ বিঘা জমিই সম্বল। আজ সেই জমিটুকু শেষ হতে চলছে। নয়াপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল, আবুল কাশেম বলেন আমাদের বাড়ির কিনারায় ভাঙ্গন চলে এসেছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে ঘরবাড়ি বালুগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তখন আমাদের পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশুকাতে রাব্বী জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে খুব শীঘ্রই অভিযান শুরু করা হবে।