কওমী সনদ বিল পাস হওয়ায় হাটহাজারীতে বেফাকের শোকরানা মিছিল

মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ।।

বহু প্রতীক্ষার দীর্ঘ সময়ের প্রাণের দাবি লক্ষ ছাত্রদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর তত্ত্বাবধানে কওমী সনদের স্বীকৃতি বিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে শোকরানা মিছিল করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা ডাক বাংলো চত্বরের সামনে এ শোকরানা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ফতেপুর মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে মাওলানা আনাস মাদানী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে লক্ষ কওমী ছাত্রদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিশিষ্ট আলেমদের প্রচেষ্টায় সংসদে সনদের বিল পাস হয়েছে। এই সনদের মান ঠিক রাখতে ছাত্রদের ভালো করে লেখাপড়া করে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। অন্যথায় এ সনদের কোন মূল্য থাকবে না। দেশ ও জাতির সেবা করতে হলে আগে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জাতীয় এই মহৎ কাজটি করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।

উক্ত শোকরানা মিছিলে আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা হাবিবুল হক নদভী মাওলানা নুরুল ইসলাম জদিদ, মাওলানা শফীউল আলম, মাওলানা এনায়েত উল্লাহ, মাওলানা ইবরাহীম খলিল, মাওলানা আলমগীর মাসুদ।

এসময় বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে কওমী ও সরকারি আলীয়া মাদরাসা রয়েছে। কিন্তু সরকার জানে একমাত্র আদর্শ সন্তান তৈরি হয় কওমী মাদরাসায়। আলীয়া মাদরাসায় কেমন লেখাপড়া হয় সেটা সকলেই জানেন। আগে কওমী মাদরাসাকে জঙ্গী প্রজনন কেন্দ্র বলে অপবাদ দিত। কিন্তু বর্তমান সরকার নিরলসভাবে বিভিন্ন গোয়েন্দা তদন্তের রিপোর্ট পেয়ে সেই অপবাদ থেকে মুক্তি দিয়েছে। তাই এই সরকারের আমলে লক্ষ কোটি প্রাণের দাবি কওমী সনদের বিল সংসদে পাস করেছে।

পরে ডাক বাংলো চত্বর থেকে হাটহাজারী বাজার সড়ক, বাসস্টেশন জিরো পয়েন্ট হয়ে রাঙামাটি সড়ক দিয়ে জাগৃতি হয়ে কাচারী সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান গেইট সংলগ্ন সড়কে এসে মোনাজাতের মাধ্যমে শোকরানা মিছিলটি শেষ হয়। এসময় নাজিরহাট-হাটহাজারী ও রাঙামাটি সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো যাত্রীরা।