“মুক্তিযুদ্ধে ফাইনাল খেলার ক্যাপ্টেন বঙ্গবন্ধু”

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

আল্লাহ ও রাসুলের পর বঙ্গবন্ধুকেই নেতা মানেন জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আইনজীবী ফজলুর রহমান বলেছেন, “আমি বেগম খালেদা জিয়ার সামনে দাঁড়িয়েও বলেছি মুক্তিযুদ্ধের ফাইনাল খেলার ক্যাপ্টেন বঙ্গবন্ধু, আর একথা মানতেই হবে।”

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮) রাতে চ্যানেল আইয়ের তৃতীয় মাত্রায় অংশ নিয়ে বিএনপি নেত্রীর উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। জিল্লুর রহমানের উপস্থাপনায় ১৪ দলীয় জোট সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাও এতে অংশ নেন।

ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন ফজলুর রহমান। সংগঠনটির সভাপতিও ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিন দশকেরও বেশি সময়। ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার সময়কালে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হয় সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবীকে।

বিএনপির রাজনীতি করলেও এখনো বঙ্গবন্ধুকেই নেতা মানেন উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, “৩৫ বছর আওয়ামী লীগ করেছি। এবাদতের মতো করে দল করেছি। আল্লাহ-রাসুলের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নেতা মনে করেছি। এখনো মনে করি, শুধু তা নয়, বিশ্বাস করি তার (বঙ্গবন্ধু) নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।”

“এর জন্য আমি এখন যে দল (বিএনপি) করি, সেই দল যদি তাড়িয়ে দেয়, তাহলে আমার কিছু করার নেই।”

উন্নয়ন নয়, সরকারের কাজ দেশে সুশাসনের ব্যবস্থা করা মন্তব্য করে বিএনপি নেত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “কিন্তু বাংলাদেশে সুশাসন অনুপস্থিত। এরপরও যদি বলা হয় দেশ ভালো আছে, তাহলে এটা হবে- মাথায় টিউমার রেখে একজন বললো, আমি ভালো আছি। ব্যাপরটা তেমন।”

“দেশ যদি এমনই হয়, তাহলে এমন একটা দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ, এত মানুষের রক্তের কোনও প্রয়োজন ছিলো না। বলা হয় দেশে উন্নয়ন, অগ্রগতি হচ্ছে। কিন্তু এটা তো সব সরকারের রুটিন ওয়ার্ক। সরকার না থাকলেও উন্নয়ন হবে। কিন্তু সরকারের প্রধান কাজ তো উন্নয়ন নয়, সুশাসন। সেটি কোথায়?”

তার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে উপস্থাপক ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, “যখন সুশাসনের কথা আসছে তখন আমাকে বলতে হবে, আমরা একটা গণতান্ত্রিক ধারায় চলছিলাম কিন্তু সেখানে হঠাৎ করে ১/১১ কেন হলো? যারা এটা তৈরি করেছিলো তারা কারা? একটা দেশকে সুশাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্ন করার জন্য দায়ি কারা? তাদের কি চিহ্নিত করেছি?” এ জন্য তিনি বিএনপিকেও পরোক্ষভাবে দায়ি বলে মনে করেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, “আগামী নির্বাচন হবে কি-না, হলেও সেটা ৫ জানুয়ারির মতো হবে কি-না তা নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।”

এ ব্যাপারে বাদশা বলেন, “২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের জন্য দায়ি বিএনপি এবং জামায়াত। আমরা সমঝোতা করতে চেয়েছিলাম। বিএনপির কাছে লিখিত প্রস্তাব দেয়ার জন্যও বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা তো দেননি।”

“দেশে যারা সংবিধান মানে না, যারা জাতীয় সঙ্গীত মানে না, পতাকা মানে না, যাদের জন্য পাকিস্তানের সংসদে সিদ্ধান্ত হয় যে- পাকিস্তানের সাচ্চা সৈনিকদের ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। সেই দল (জামায়াত) কোনও জোটে থাকলে সেটাকে পাকিস্তানপন্থি জোট ছাড়া অন্য কিছু বলা যাবে না। জঙ্গীবাদ দিয়ে তো দেশে সুশাসন হবে না। পাকিস্তানী ভাবধারা নিয়ে চললে তো হবে না।”

পরে ফজলুর বলেন, “কথায়-কথায় পাকিস্তানের কথা বলা হয়। কিন্তু সেখানে দেখুন নওয়াজ শরিফকে দশবছরের সাজা দিয়েছে বিচার বিভাগ। সাত বছর জেল হলো তার মেয়ের এবং মেয়ে জামাইয়ের। দেড় মাসের মধ্যে তাদের জামিন দেয়া হলো। তার সাজা স্থগিত করে দিলো। এখন চাইলে তারা রাজনীতিও করতে পারবেন। কিন্তু আমাদের এখানে বেগম খালেদা জিয়াকে একটি পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে। ৭৫ বছরের নারী যিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, মধ্যযুগের থেকেও বর্বর একটা জায়গায় রাখা হয়েছে। কারণ আমরা জানি এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।”

সূত্র : ঢাকাটাইমস, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮