ব্লাড ক্যান্সার কী, লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

ক্যান্সার শব্দটাতেই একটি আতঙ্কের বিষয়। শুনলেই কেমন আঁতকে উঠতে হয়। সেটার কারণ হচ্ছে ক্যান্সারেই মৃত্যু এমনটা আগে হত। তবে বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার কারণে মানুষের মনে ক্যান্সার ভীতিটা আর আগের মত নেই। তাই ব্লাড ক্যান্সার হোক আর যে ক্যান্সারই হোক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব।

১. শ্বেতকণিকা থেকে সৃষ্ট ব্লাড ক্যান্সারকে লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সার বলে। এই ধরণের ব্লাড ক্যান্সার তিন ধরণের হয়ে থাকে।
ক। একিউট মাইলোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া
খ। একিউট লিমফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া
গ। ক্রনিক লিমফোসাইটিক লিউকেমিয়া

২. লসিকা গ্রন্থি থেকে সৃষ্ট এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সারকে লিমফোমা বলে। এই ধরণের ব্লাড ক্যান্সার ২ ধরণের হয়ে থাকে।
ক। হজকিন ও নন হজকিন লিমফোমা,
খ। লিমফোব্লাস্টিক লিমফোমা ইত্যাদি।

৩. মাইলোমা ও প্লাজমা সেল লিউকেমিয়া: প্লাজমা সেল থেকে সৃষ্ট ব্লাড ক্যান্সার।

ব্লাড ক্যান্সারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো কেমিক্যাল। এরপর ভাইরাস, পরিবেশগত রেডিয়েশন। আর আগেই বলেছি জেনেটিক কারণ।

আমরা প্রতিনিয়ত যেসব কেমিক্যালের সম্মুখীন হই, এই কেমিক্যালের মধ্যে কারসিনোজেনিক উপাদান রয়েছে, যেটা দিয়ে ব্লাড ক্যানসার হতে পারে। যেমন : আমাদের ঘরের দ্রব্যাদির কথাই ধরি, এই যে জুতায় পালিশ করছি আমরা সুপলিশ দিয়ে, এর মধ্যে একটা বিদঘুটে গন্ধ আছে খেয়াল করবেন। একটা উৎকট গন্ধ। এর পর যে নেইলপলিশ, রিমুভার, কসমেটিকস, পারফিউমের ভেতরে, অর্থাৎ যেসব কেমিক্যালের মধ্যে অ্যারোমেটিক গন্ধ রয়েছে, সেগুলো কারসিনোজেন। তার পর যারা রঙের প্রতিষ্ঠানে কাজ করে, আলকাতরার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে, পেট্রোলিয়ামজাতীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করে, এমনকি পেট্রলপাম্পে যারা কাজ করে, তাদের এই সমস্যা হতে পারে। এবং আপনি শুনলে অবাক হবেন, এর ভেতরে কিছু কর্মী যারা নেশাগ্রস্ত হয়ে যায়। যে পেট্রলের গন্ধ না নিলে তাদের ভালো লাগে না। প্রতিদিন গিয়ে এরা ওই গন্ধ না নিয়ে তাদের ভালো লাগে না। সুপার গ্লু বা গামজাতীয় যে জিনিস রয়েছে, যারা এই গাম নিয়ে কাজ করে, তাদের এই সমস্যা হতে পারে। আমি কয়েক দিন আগে দেখলাম, একটা শিশু ওখানে কাজ করে, সে পলিথিনের ব্যাগের ভেতর গাম রেখে ওইটা মুখের ভেতরে নিয়ে নিশ্বাস নিচ্ছে। নেশাগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। না নিলে তার ভালো লাগছে না। এ ধরনের যত কেমিক্যাল আছে, সেগুলো কারসিনোজেন। এগুলো থেকে ক্যানসার হতে পারে।

আমরা যদি খাবারের দিকে আসি, খাবারে অনেক কিছুই মেলানো হয়, যেগুলো কারসিনোজেন। খাবার সংরক্ষণ করার জন্য যে ফরমালিন দেওয়া হয়, মাছে দেওয়া হয়, ফলে দেওয়া হয়, সবজিতে দেওয়া হয়—এগুলো থেকে ক্যানসার হতে পারে। এই ফরমালিন কীভাবে প্রিজারভ করে? ফরমালিনে ডোবানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রোটিনগুলো ভেতরে ফিক্সড হয়ে গেল। তখন ওই জিনিসটির সহজে আর পচন ধরবে না। আর ওই জিনিস খাওয়ার পর ফরমালিন যখন আমাদের শরীরে যায়, সে ভেতরে গিয়ে একেকটা জিনকে প্যারালাইজড করে দিতে পারে। তার পর আমরা আম পাকার জন্য, কলা পাকার জন্য কার্বাইড ব্যবহার করি। এগুলো থেকে হয়। এর পর আমাদের কৃষিক্ষেত্রে যে ফার্টিলাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে, কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে, এগুলো দেহে ক্ষতি করে।

এখন কীভাবে এগুলো ক্ষতি করে? ছোট্ট একটা উদাহরণ দিই। আপনি যদি ফুলকপি খেতে চান, সেটা তো শীতের মৌসুমের একটা সবজি। শীত শুরু হওয়ার আগেই দেখলেন, বাজারে ফুলকপি চলে এসেছে। পরিমাণটা বড় নয়, ছোট ছোট। তবে অনেক দাম। কিন্তু আপনার লোভ হলো এটি নেওয়ার। বা একটা টমেটোর কথাই ধরেন, যেগুলো সময়ের আগে বাজারে এসেছে, সেটার ভেতরে অত্যধিক কেমিক্যাল দেওয়া হয়, ফার্টিলাইজার দেওয়া হয়, ইনসেকটিসাইড দেয়। এর পর পাকানোর ওষুধ কার্বাইড দেওয়া হয়। এভাবে একে জোর করে সময়ের আগে বাজারে নিয়ে আসা হলো বেশি দামের আশায়। এই জিনিসগুলো যদি আমরা খাই, যা একেবারে কেমিক্যালে ভরা, আর কেউ যদি এগুলো বেশি বেশি খেতে থাকে, তাহলে ক্যানসার হতে পারে।

তার পর রেডিয়েশনের কথা ধরেন। যেসব প্রতিষ্ঠানে এক্স-রে, রেডিওথেরাপি ইত্যাদি হয়, সেখানে যদি সুরক্ষার জন্য ডিভাইস ব্যবহার না করা হয়, তাহলে ওখান থেকে ক্যানসার হতে পারে। উন্মুক্ত পরিবেশে যারা কাজ করে, যেমন—সমুদ্রে যারা কাজ করে, সে প্রতিনিয়ত সূর্যের আলোয় কাজ করে। ওখানে লবণাক্ত পানি, সূর্যের আলো সমুদ্রে পড়ে রিফ্লেকশন হয়ে শরীরে চলে আসছে। সমুদ্রসৈকতে বালু, বালুর ভেতরে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে শরীরে আসছে। এসব থেকেও ক্যানসার হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায় :
১। যেসব রোগীকে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি একসঙ্গে দেয়া হয় তাদের মধ্যে ব্লাড ক্যান্সারের প্রবণতা প্রায় ২০ গুণ বেড়ে যায়।
২। সকল ধরণের তেজস্ক্রিয়তা পরিহার করতে হবে।
৩। রাসায়নিক দ্রব্যাদির সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে।
৪। এক্স-রে বিভাগে ও নিউক্লিয়ার বিভাগের কাজ করার সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
৫। ধূমপান ও তামাক জর্দা পরিহার করতে হবে।

সূত্র : সময় নিউজ, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮