পরিবহন ধর্মঘটে শিশুমৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা পরিবর্তনের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। ওই সময় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেন শ্রমিকরা। অ্যাম্বুলেন্সে ছিল মুমূর্ষু এক শিশু, যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার থেকে সিলেটে নেয়া হচ্ছিল।

কিন্তু পরিবহন শ্রমিকরা আটকে দেয়ায় অ্যাম্বুলেন্সেই শিশুটির মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় শিশুটির পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

১০ জানুয়ারির মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শককে ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মেডিক্যাল সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল হালিম এ তথ্য জানান।

চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে “অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় মৃত্যু নবজাতকের” শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের পক্ষে রিট দায়ের করা হয়।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানার ওসি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার শাহিন, অ্যাডভোকেট মো. জহিরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা পরিবর্তনের দাবিতে ২৮ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। কর্মবিরতি চলাকালে সাধারণ চালক ও শিক্ষার্থীদের শরীরে পোড়া মবিল লাগিয়ে দেয় শ্রমিকরা। এমনকী মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

২৯ অক্টোবর জাতীয় ওই দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিকরা দাবি আদায়ের নামে মুমূর্ষু এক নবজাতককে বহনকারী গাড়ি আটকে দেয়ায় সময় মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পথেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে সাতদিন আগে পৃথিবীর আলো দেখা শিশুটি।”

নিহত শিশুটি বড়লেখা সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের কুটন মিয়ার মেয়ে।

শিশুটির চাচা আকবর আলী বলেন, রাত থেকে বাচ্চাটা কোনো কিছু খাচ্ছিল না, শুধু কাঁদছিল। সকালে শিশুটিকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত সিলেট নেয়ার জন্য বলেন। চিকিৎসকের কথা মতো বাচ্চাটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেই।

আকবর আলী অভিযোগ করেন, সিলেট যাওয়ার পথে বড়লেখা উপজেলার দরগাবাজারে অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেন পরিবহন শ্রমিকরা। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়। একই ভাবে দাসেরবাজার এলাকায় তাদের আটকানো হয়। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে চান্দগ্রাম বাজারে আবার শ্রমিকরা অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেয়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের চালককে মারধর করা হয়। শিশুটি সেখানেই মারা যায়। পরে আমরা বিয়ানীবাজার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ করেছি।

কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ ওই সময় জানান, ঘটনাটি অবশ্যই নিন্দনীয়। কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

সূত্র : জাগো নিউজ, ৩ ডিসেম্বর ২০১৮