হাইকোর্টের রায়ও মানছেন না হাটহাজরীর এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষ!

মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ।।

চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার “জামেয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসা”র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল বশর ছিদ্দিকী মহামান্য হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিধি বিধানও মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্ট ডিভিশনে রীট পিটিশন নং-৩৬৫৭/২০১৫-এর রায়ে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাদরাসাসহ) কোনো শিক্ষক- কর্মচারি (প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ)কে ৬০ দিনের বেশি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রাখা যাবে না। অপরদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নং- ৫৭.২৫.০০০০.০০৪.০০১.১৭৪ তারিখ- ২৬/০৯/২০১৭ খ্রি, একই নিয়ম উল্লেখ্য।

এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় স্মারক নং- ০৫.৪২.১৫০০.৬০৩.৫১,০০৪.১৬.৮৬৩ তারিখ -০২/১০/২০১৭ খ্রি এবং জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় স্মারক নং- ডিইও/ চট্ট/২০১৭/৮১১(১৯) তারিখ -১২/১০/২০১৭ খ্রি প্রেরিত বিষয় ও সূত্রের প্রেক্ষিতে জানা যায় যে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক-কর্মচারিকে ৬০ দিনের বেশি সাময়িক বরখাস্তে রাখা যাবে না। ৬০ দিনের বেশি সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষক-কর্মচারি বেতন ও অন্যান্য সমুদয় ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।

উল্লেখিত মাদরাসার সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারি শিক্ষক মোহাম্মদ জামাল ছাত্তারকে গভার্নিং বোডির সিদ্ধান্ত মতে স্মারক নং-(জা/অ/মা/অ-১৪-২১০, ২৩/০২/২০১৪ তারিখে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মাদরাসার স্মারক নং-জা/অ/মা-১৫২/২০১৭ খ্রি-তাঁর সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং ২৬/০৯/২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মাদরাসার কার্যক্রমে যোগদান করার জন্য অনুরোধ করা হয়। শিক্ষক জামাল ছাত্তার ১৯/০৯/২০১৭ ইংরেজিতে যোগদান করেন ও তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন এবং দু’মাসের পূর্ণ বেতনও পান । তারপর আবার পূর্বের মত সাময়িক বরখাস্তের ন্যায় অর্ধ বেতনের বিল করতে থাকেন এবং অর্ধ বেতনে করা বিলে স্বাক্ষরে অসম্মত হলে সৃষ্টি হয় সমস্যা।

অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জামাল ছাত্তারের পূর্ণ বেতনসহ বিল উপস্থাপন করতে বলেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তা মানতে রাজি না হওয়ায় এবং অক্টোবর ১৮-এর বেতন না পাওয়ায় শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের উপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।

এতে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশংকা দেখা দেয়। এ খবর পাওয়ামাত্রই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পাঠিয়ে অধ্যক্ষের অফিসে তালা লাগিয়ে দেয়ার এবং অধ্যক্ষকে অফিসে না বসার নির্দেশ দেন। পরে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল বশর ছিদ্দিকীকে পুলিশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে নিয়ে যান। এসময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল বশর ছিদ্দিকী বলেন, তাঁর উকিল জামাল ছাত্তারের নামে বিল না করার জন্য বলেছেন।

অত্র মাদ্রাসার ভুক্তভোগী শিক্ষক জামাল ছাত্তার জানান, গত ৪/৫ বছর ধরে বেতন না পেয়ে স্ত্রী-সন্তান এবং পরিবার নিয়ে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি আরও বলেন,”আমার সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে আমি তার উপযুক্ত বিচার চাই এবং সাথে সাথে আল্লাহর কাছেও এমন জুলুমের বিচার দিলাম”।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অধ্যক্ষ মহোদয় শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার ভয়ে আত্মগোপন করে আছেন এবং তাঁর অপছন্দনীয় কয়েকজন শিক্ষকের নামে থানায় নাকি জিডিও করেছেন বলে জানতে পেরেছি।