জামায়াতে ইসলামি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে সরকার

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য সংগঠন হিসাবে জামায়াতে ইসলামিকে নিষিদ্ধ করতে চায় শেখ হাসিনার সরকার। বুধবার (৯ জানুয়ারি ২০১৯) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘‘শেখ মুজিবুর রহমান ও কারাগারে চার জাতীয় নেতার হত্যার নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। এ জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করা হচ্ছে।’’

প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েই শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৭৫-এর ১৫ অগস্টের অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের শাস্তিও হয়। এর পরে ২০০৮-এ নির্বাচনে জিতে ফের ক্ষমতায় এসে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত গঠন করে একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী রাজাকার, আল শামস ও আল বদর নেতাদের কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।

গণহত্যা ও মানবতা-বিরোধী অপরাধের জন্য স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামির একঝাঁক নেতা ও বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ফাঁসি ও আমৃত্যু কারাদণ্ড কার্যকরও হয়েছে। স্বাধীনতার পরে মৌলবাদী জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে জামায়াতকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনেন। পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়া জামায়াত নেতাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন। স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষ নেয়া জামায়াতে ইসলামিকে সংগঠন হিসাবে নিষিদ্ধ করার দাবি অনেক আগেই উঠেছে। রাজনৈতিক দল হিসাবে জামায়াতের রেজিস্ট্রেশন ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে আদালত।

এজন্য সাম্প্রতিক নির্বাচনে শরিক বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে লড়তে হয়েছে জামায়াতের প্রার্থীদের। কিন্তু জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে সরকারের মধ্যেই দ্বিধা রয়েছে। কারও কারও যুক্তি, নিষিদ্ধ করা হলে চোখের আড়ালে গিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়িয়ে তুলতে পারে জামায়াত। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘আইন সংশোধন করে জামায়াতের বিচার করা হবে। বিলটি আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলে সেটি মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।’’

বাংলাদেশের নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে ৩০ জানুয়ারি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই শপথ নিয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন ৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের গণনা বন্ধ ছিল। গতকাল বুধবার আসনটির ওই ৩ কেন্দ্রে ফের ভোটের পরে এ দিন ফল ঘোষণা হয়। বিএনপি প্রার্থী আব্দুস ছাত্তার ভুঁইয়া আসনটি জেতায় সংসদে দলটির সদস্য সংখ্যা বেড়ে হল ৬। শরিক গণফোরাম পেয়েছে ২টি আসন।

 

সূত্র : আনন্দবাজার, ১০ জানুয়ারি ২০১৯