উপজেলা নির্বাচন : কিশোরগঞ্জে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘিরে সরগরম ফেসবুক

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

সারা দেশের মতো কিশোরগঞ্জেও বইছে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। জেলাজুড়েই চলছে নির্বাচনী তোড়জোড়। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জেলা থেকে কেন্দ্রের নেতাদের কাছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে শুরু করেছেন লবিং। সমানে প্রচার চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও। পছন্দের মানুষকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চেয়ে ছবিসহ পোস্ট দিচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষী-সমর্থকেরা।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকেই আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছেন। এক্ষেত্রে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপিতে এখনো নির্বাচন ঘিরে কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

বিগত উপজেলা নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৮টিতে আওয়ামী লীগ, তিনটিতে বিএনপি, একটিতে জাতীয় পার্টি এবং একটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে ওই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে ছিল না।

এর মধ্যে হোসেনপুর উপজেলায় প্রয়াত মো. আয়ুব আলী, পাকুন্দিয়া উপজেলায় রফিকুল ইসলাম রেনু, কটিয়াদী উপজেলায় আব্দুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন, বাজিতপুর উপজেলায় মো. ছারওয়ার আলম, নিকলী উপজেলায় কারার সাইফুল ইসলাম, ইটনা উপজেলায় চৌধুরী কামরুল হাসান, মিঠামইন উপজেলায় অ্যাডভোকেট আবদুস শাহিদ ভূঁইয়া এবং অষ্টগ্রাম উপজেলায় শহীদুল ইসলাম জেমস আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শরীফ, কুলিয়ারচর উপজেলা নূরুল মিল্লাত এবং করিমগঞ্জ উপজেলায় সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন বিএনপি প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

তাড়াইল উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্মআহ্বায়ক প্রয়াত কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া কাঞ্চন। এছাড়া ভৈরব উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা মো. গিয়াস উদ্দিন।

পরবর্তীতে হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আয়ুব আলীর মৃত্যুতে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিএনপির জহিরুল ইসলাম মবিন এবং তাড়াইল উপজেলায় কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া কাঞ্চনের মৃত্যুতে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. আজিজুল হক ভূঞা মোতাহার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এবার দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকের আশায় দলীয় মনোনয়নের জন্য দলের দায়িত্বশীলদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে প্রার্থিতার আবেদন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিকটাত্মীয়, শুভানূধ্যায়ী ও অনুগত নেতাকর্মীরা প্রার্থিতার জন্য ফেসবুকে চালাচ্ছেন প্রচারণা। কেউ কেউ নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়েও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই দলীয় কর্মকাণ্ডসহ নানা তৎপরতার ছবি ফেসবুকে আপলোড দিচ্ছেন। এখন ফেসবুক খুললেই শুধু ভেসে উঠছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে মনোনয়ন চাওয়ার আবেদন। ফেসবুকে কার পোস্টে কতো বেশি শেয়ার লাইক কমেন্ট হচ্ছে, সে নিয়েও চলছে আলোচনা। ফেসবুকের পাতা যেন হয়ে ওঠেছে মনোনয়নের বিকল্প মাঠ।

সূত্র : কিশোরগঞ্জ নিউজ, ১৩ জানুয়ারি ২০১৯