ব্রণের দাগ চিরতরে তাড়ানোর কিছু ঘরোয়া সমাধান!

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

যে কোন বয়সের ও লিঙ্গের প্রায় সকলের একটি সাধারণ ত্বকের সমস্য হলো ‘ব্রণ’। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মাঝে ব্রণের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কারণ বয়ঃসন্ধিতে হরমোনের সমস্যা ও অসামঞ্জস্যতা দেখা দিলে ব্রণ দেখা দেয়। হরমোনের তারতম্যের ফলে গ্ল্যান্ড প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল উৎপন্ন করে থাকে। যার ফলে ত্বকের রোমকূপে বেশি ময়লা আটকে থাকে ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামণও বেশি হয়ে থাকে।

ব্রণের সমস্যা দূর করার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্রণ হবার পরবর্তি সময়ে মুখের ত্বকে দাগ বসে যাওয়ার ফলে সমস্যা দেখা দেয়। এই সকল দাগ খুব সহজে দূর হতে চায় না একেবারেই। ত্বকের ভিন্নতা অনুযায়ী প্রায় সকল ধরনের ত্বকেই ব্রণের দাগ বসে যায়। এই দাগ দূর করার জন্যে অনেকেই বাজারের কেমিক্যালযুক্ত বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করে থাকেন। তবে সবচাইতে উত্তম ও উপকারী হচ্ছে, ঘরোয়া উপাদান দিয়ে ঘরোয়া উপায়ে ত্বক থেকে ব্রণের দাগ দূর করা। সকল ধরনের ত্বকের উপযোগী কিছু ঘরোয়া সমাধান তুলে ধরা হলো যা সাময়িক নয়, বরং চিরকালের সমাধান দেবে।

অ্যালোভেরা
প্রাকৃতিক উপাদান অ্যালোভেরা পাতার জেলে রয়েছে প্রদাহ-বিরোধী উপাদানসমূহ ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানসমূহ। যা অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক ক্ষত ও দাগ সারানোর জন্য অন্যতম একটি প্রাকৃতিক উপাদান করে তোলে।
ব্যবহারবিধি : অ্যালোভেরার পাতা মাঝ বরাবর কেটে ভেতরের জেল চামচের সাহায্যে ছেঁচে নিতে হবে। এরপর সেই জেল সরাসরি মুখের ত্বকের আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে। ম্যাসাজ শেষে ৩০ মিনিট সময়ের জন্য মুখে অ্যালোভেরা জেল রেখে দিতে হবে, এরপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রতিদিন দুইবার এই পদ্ধতিতে অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে হবে।

লেবু
প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান হিসেবে লেবু সবচাইতে ভালো একটি উপাদান। ত্বকের যেকোন ধরনের দাগকে হালকা করে ফেলার ক্ষেত্রে সবচাইতে ভালো কাজ করে থাকে লেবু। একই সাথে ত্বকের মরা চামড়া দূর করে ত্বকে নতুন কোষ তৈরিতে, ত্বকের নমনীয়তা বৃদ্ধিতে এবং ত্বককে উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে থাকে।
ব্যবহারবিধি : সমপরিমাণ লেবুর রস ও মধু একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে। তুলার বলের সাহায্যে ত্বকের দাগযুক্ত স্থানে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে খুব আলতোভাবে মুখ মুছে নিতে হবে। প্রতিদিন এইভাবে লেবু ব্যবহার করতে হবে।

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার
অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের অ্যাসিডিক উপাদানসমূহ ত্বকের পিগমেন্টেশনকে হালকা করতে সাহায্য করে থাকে। যে কারণে, ব্রণের ফলে ত্বকে তৈরি হওয়া দাগ কমাতে এই ভিনেগার চমৎকার কার্যকরি। একই সাথে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার ত্বকের মরা চামড়া দূর করতেও সাহায্য করে থাকে।
ব্যবহারবিধি : সমপরিমাণ আনফিল্টার্ড অ্যাপল সাইডার ভিনেগার এবং পানি একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর তুলার বলের সাহায্যে ত্বকের দাগযুক্ত স্থানে লাগিয়ে ১০ মিনিট সময়ে জন্য রেখে দিয়ে পানি দিয়ে মুখ খুব ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রতিদিন একবার এই নিয়মে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করতে হবে।

নারিকেল তেল
প্রাকৃতিক উপাদান নারিকেল তেলে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-ই এবং ফ্যাটি অ্যাসিডসমূহ, যা ত্বকের কোষের ক্ষতিপূরণ করতে, ত্বককে সুস্থ রাখতে এবং ত্বকের দাগ দূর করতে সাহায্য করে থাকে। একইসাথে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং ত্বককে নমনীয় রাখার জন্যে নারিকেল তেল খুব ভালো কাজ করে থাকে।
ব্যবহারবিধি : নারিকেল তেল সরাসরি ত্বকের দাগযুক্ত স্থানে লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট সময় নিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে। ম্যাসাজ করার পরে অন্তত এক ঘণ্টার জন্য ত্বকে তেল রেখে দিয়ে এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

বেকিং সোডা
ত্বকের দাগ দূর করার ক্ষেত্রে বেকিং সোডা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করা যাবে। এটি এক্সফলিয়েন্ট উপাদান হিসেবেও ত্বকের উপরের দাগকে দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
ব্যবহারবিধি : একটি বাটিতে দুই চা চামচ বেকিং সোডা নিয়ে কিছু পরিমাণ পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এরপর এই পেস্ট সরাসরি ব্রণের দাগের উপরে লাগিয়ে দিয়ে ৫ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রতিদিন অন্তত একবার এইভাবে বেকিং সোডা ব্যবহার করলে কয়েক সপ্তাহের মাঝেই দাগ কমে যাবে অনেকখানি।

ঘরোয়া এই সকল উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, রাতারাতি কোন পরিবর্তন পাওয়া এক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তবে যেহেতু কেমিক্যালমুক্ত পণ্য ব্যবহার করা হচ্ছে, সেহেতু এই উপায় ত্বকের ক্ষেত্রে কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করবে না। শুধুমাত্র ধৈর্য ধরে ব্যবহার করলেই ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

সূত্র : Top10HomeRemedies