সোনারগাঁও রাঙালো ঢাকাস্থ নিকলী সমিতির প্রথম পিকনিক

বিশেষ প্রতিনিধি ।।

ঢাকায় বসবাসরত নিকলীবাসীর সংগঠন ঢাকাস্থ নিকলী সমিতির বনভোজন ৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনন্দঘন মুহূর্তে দিনটি উদযাপনে অংশগ্রহণকারী সবাই ছিলেন উজ্জ্বল-উচ্ছল।

শুক্রবার সকালে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন নিকলীবাসীরা। উদ্দেশ্য একসাথে বনভোজন উদযাপন। সকাল ৯টায় সদস্যদের নিয়ে সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশে গাড়ি রওয়ানা শুরু করে। স্পটে পৌছা পর্যন্ত গানে গানে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারী সকল নিকলীবাসী।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, সদা সবুজ মনের মানুষ মুশতাক আহম্মদ লিটনের প্রাণবন্ত নেতৃত্ব বনভোজনকে আরো উপভোগ্য করে তোলে। সর্বোপরি ঢাকাস্থ নিকলী সমিতি পিকনিক-২০১৯ উদযাপন আহ্বায়ক কমিটির সকল সদস্যের স্বেচ্ছাশ্রম আয়োজনটি শতভাগ সাফল্যে ভরপুর করে তোলে।

বনভোজনে খেলা পর্বে ছিলো ৪টি বিশেষ আয়োজন। প্রথম খেলায় নির্দিষ্ট দূরত্বে বল নিক্ষেপে লক্ষ্যভেদ প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার তুলে নেন লুৎফুন্নাহার মীরা। দ্বিতীয় পুরস্কার মোঃ ইসহাক এবং তৃতীয় পুরস্কার অর্জন করে মুনতাহা আহসান।

নির্দিষ্ট দূরত্বে গোলপোস্টে বল পাঠানোর দ্বিতীয় খেলায় প্রথম পুরস্কার তুলে নেন দীপ্ত আহসান। দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করেন নিয়াদ হাসান রকি এবং তৃতীয় অবস্থান কিশোর মোসার। এই খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়ে গেলে অবস্থান নির্ধারণের জন্যে একাধিক পর্ব পরিচালনা করতে হয়।

নিকলীবাসীদের ক্ষণিকের জন্যে হলেও ছেলেবেলায় ফেরাতে তৃতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হয় মার্বেল খেলার। সব খেলার মতো এখানেও অংশগ্রহণ করেন সব বয়সীরাই। একে একে ছুঁড়তে লাগলেন নির্দিষ্ট ছকে মার্বেল বসাতে। প্রথমবারের নিশানায় একাধিক মার্বেল আটকে দিয়ে প্রথম স্থানে বসে যান বনভোজন-২০১৯ আয়োজনে ঠাট্টা-মশকরার মধ্যমণি “দুলাভাই” রেহানে মুস্তাফা (তাঁকে অবশ্য জাতীয় দুলাভাই বলেও ডাকতে শোনা যায়)। দ্বিতীয় হন তোফায়েল আহছান, তৃতীয় অবস্থান শাহরিয়ার আহমেদের।

নিকলী উপজেলাকেন্দ্রিক প্রথম অনলাইন সংবাদমাধ্যম “আমাদের নিকলী ডটকম”-এর ব্যবস্থাপনায় সবশেষ ও সবচেয়ে আকর্ষণীয় খেলাটি ছিলো চোখ বেঁধে হাঁস ধরা। খেলার নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী সীমিত থাকায় লটারির মাধ্যমে পাঁচজন নির্বাচন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতায় বেশি সময় লাগলো না হাঁস ধরতে। চোখ বেঁধে সবার আগে হাঁসকে নিজের দখলে নিয়ে নেন নূরে আলম রনি। সেই সাথে পুরস্কার হিসেবে হাঁসের মালিক হয়ে যান তিনি। বিজয়ীর মালা পরিয়ে দেন পিকনিক আয়োজন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব কারার মোশাররফ হোসেন।

সব বনভোজন আয়োজনের আকর্ষণীয় ইভেন্ট র‌্যাফেল ড্র। প্রথম পুরস্কার মোবাইল ফোন জিতে নেন আবদুস সালাম। দ্বিতীয় পুরস্কার তাফিফ আহসান এবং তৃতীয় তসলিমুল হকের। এছাড়াও ঢাকাস্থ নিকলী সমিতি বনভোজন-২০১৯ অনুষ্ঠানে সকল অংশগ্রহণকারীকে স্মারক হিসেবে একটি মগ উপহার দেয়া হয়। স্মারক মগ-এর স্পন্সরশিপে ছিলো এম এম ফ্যাশন ও আমাদের নিকলী ডটকম।