হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ পরিবার নিঃস্ব

মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ।।

হাটহাজারীতে বিদ্যুৎ সর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নস্থ বাদামতলের পূর্বে মেহের আলি চৌধুরীর বাড়িতে ১৩টি ও মেখল ইউনিয়ন এলাকায় ১টি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সংগঠিত হয়। অগ্নিকাণ্ডে ১১ বসতঘরের সকল পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই টিনসেড ঘরগুলো আগুনের তীব্রতা বেড়ে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিটি পরিবারের আসবাবপত্র সহ আলমিরাতে রাখা টাকা, স্বর্ণলংকার পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অগ্নি নির্বাপণের চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

এদিকে সকাল ১০টার সময় বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিট থেকে মেখল ইউনিয়নের হিম্মত সিকদার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুহিব্বুল্লাহ সিকদারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়রা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে ব্যর্থ হলে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে বিদ্যুৎ খুটির একটি লাইন থেকে নুর বক্সের ঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনের তীব্রতায় ঘুম ভেঙ্গে সকলে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে সবাই। তাদের চিৎকারে পার্শবর্তী লোকজন ছুটে আসে।

কিন্তু বিদ্যুৎ লাইন সচল থাকায় কেউ ভয়ে পানি নিক্ষেপ করেনি। প্রায় ২০ মিনিট পর বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ হওয়ার পরে পুকুর থেকে পানি নিক্ষেপ করে আগুন টিনসেড ঘরগুলোতে। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে দ্রুত হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতায় বসতঘরগুলি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলেন, মমতাজ বেগম, মো. আব্দুর রশিদ কালু, ইউসুফ, মো. জাহাঙ্গীর, বাসেক, ভোলা, নুর বক্স, নুর নাহার, নুর বেগম, কুরবান আলি, মহরম আলি, আলী আহমদ, আবু বক্কর ও মেখলের মুহিব্বুল্লাহ সিকদার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রতিবেদককে জানান, তাদের সহায় সম্বল সব শেষ। বছরের ঘরের চাষ করা প্রায় ৩শত আড়ি ধান পুড়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু বের করতে পারিনি। এখন নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন করছি। আগুনে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র অফিসার আবুল কালাম জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ৪০ লক্ষ টাকা হবে। এর আগেও এক যুগ আগেও পরিবারগুলো অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও জানা যায়।