এবার ট্রলিচাপায় প্রাণ গেল অপর ট্রলি ড্রাইভারের

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

কটিয়াদী উপজেলার নোয়াবাড়িয়ায় বাগপাড়া মোড়ে গতকাল সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯) ট্রলি চাপায় অপর এক ট্রলি ড্রাইভারের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ড্রাইভার মোঃ মাতু মিয়া (৩০) একই উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের পাঁচলিপাড়ার মৃত সেকান্দার মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার আনুমানিক সকাল ১০টায় মাটিভর্তি ট্রলি নিয়ে মাতু মিয়া করগাঁও থেকে গচিহাটা যাচ্ছিলেন। নিকলী-কিশোরগঞ্জ রোডের নোয়াবাড়িয়া বাগপাড়া মোড়ে পৌছলে পেছন থেকে অপর একটি ট্রলি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে মাতু মিয়া গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসী উদ্ধার করে বাজিতপুরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার সাথে সাথেই ঘাতক ট্রলি চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। মাতু মিয়া কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের পাঁচলিপাড়া গ্রামের মৃত সেকান্দর মিয়ার একমাত্র ছেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পারভেজ লস্কর জানান, এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমরা বেশ গুরুত্বের সাথেই দেখছি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১১ সালে কুর্শা পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবু তালেবের ছেলে তোফাজ্জল (১২), ২০১৭ সালে পাঁচরুখির আবদুল মালেকের ছেলে সেন্টু (৪০), ২০১৮ সালে কুর্শা পশ্চিমপাড়ার সাইদুর রহমানের ছেলে সাদেক (২৫) স্থানীয় ইটভাটার বেপরোয়া ট্রলিচাপায় প্রাণ হারান। সবশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মো. তৌহিদ (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিকলীর কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, জড়িতরা প্রভাবশালী বিবেচনায় একের পর এক দুর্ঘটনা (!) ঘটিয়ে সামান্য ক্ষতিপূরণের বিপরীতে ঘটনার ধামাচাপা দিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ইটভাটাগুলোর ব্যবহৃত শতাধিক ট্রলির বেশিরভাগই বৈধ কাগজবিহীন ও অদক্ষ লাইসেন্সবিহীন চালকের হাতে। যার ফলে দুর্ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। দায়িত্বহীনতার কারণে বেড়ে চলা এই মৃত্যুমিছিলে লাগাম টানতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।