নিকলীতে প্রতিবন্ধী কলেজ ছাত্রী ধর্ষিত, প্রতিবাদে মানববন্ধন

কে এম স্বপন, বিশেষ প্রতিনিধি ।।

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে স্নাতক পড়ুয়া এক প্রতিবন্ধী ছাত্রী (২০) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষক অরুণ সূত্রধর (২৬) ও সহযোগী ইউপি সদস্য শংকর সূত্রধরের শাস্তির দাবিতে শনিবার (১৬ মার্চ ২০১৯) দুপুরে নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে।

ধর্ষিতা ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের সূত্রধরপাড়ার সংখ্যালঘু পরিবারের শারিরীক প্রতিবন্ধী ও নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক ২য় বর্ষের ছাত্রী। পাশের বাড়ির অবনী সূত্রধরের পুত্র তাপস সূত্রধরের স্ত্রী ও বাউবির এসএসসি পরীক্ষার্থী মুক্তা সূত্রধরকে প্রাইভেট পড়াতে প্রতিদিন তাদের বাড়িতে যায় ওই ছাত্রী।

নির্যাতিতার ছবি ও নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে সে অংশ বিবর্ণ করে দেয়া হলো

মুক্তার দেবর অরুণ সূত্রধর বিয়ের প্রলোভনে ওই ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিগত বছরের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে বাড়ির সামনে অরুণের ফার্নিচারের দোকানে তার সাথে দেখা করতে যায় ছাত্রীটি। এসময় উপস্থিত অরুণের সহযোগী ও দামপাড়া ইউপি সদস্য শংকর সূত্রধর বাইরে থেকে দোকান লাগিয়ে পাহারা দেন। অরুণ এ সময় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

ঘটনার কিছু দিনের মধ্যে ছাত্রীটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি অরুণ বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ছাত্রীটিকে কিশোরগঞ্জ শহরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। অরুণের বিয়ে করতে টালবাহানায় ঘটনা ফাঁস হলে স্থানীয়ভাবে একাধিক শালিস বসে। বিয়ের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

ইউপি সদস্য শংকর সূত্রধরের সহযোগিতায় অরুণ শালিস সিদ্ধান্ত অবমাননা করে। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন ওই ছাত্রীর ছোটভাই ও স্নাতক ১ম বর্ষের ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে নিকলী থানায় মামলা করতে যায়। ওসি নাসির উদ্দিন ভূইয়া মামলা নিতে অস্বীকার করেন। বাধ্য হয়ে ওই ছাত্রী ১২ মার্চ কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে।

মানববন্ধন বিষয়ে জানতে স্থানীয় সাংবাদিকগণ ওসি নাসির উদ্দিন ভূইয়ার সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে। ফোন না রিসিভ করায় ওসির মতামত গ্রহণ সম্ভব হয়নি।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার জানান, ধর্ষিতা ছাত্রীর খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ধর্ষক ও সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিতে সকল প্রকার সহযোগিতায় থাকবে উপজেলা প্রশাসন।

কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার শাহ মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, ধর্ষণ বা মানববন্ধন বিষয়ে জানতে পারলাম। ওসির ফোন রিসিভ না করার বিষয় ও প্রকৃত অবস্থা জানতে শীঘ্রই সরেজমিনে নিকলী আসবেন বলে উল্লেখ করেন।