হাটহাজারীতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে হয়রানির অভিযোগ!

মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ।।

হাটহজারী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষকদের হয়রানি করার খবর পাওয়া গেছে।

সূত্রে জানা যায়, কাটিরহাট মফিদুল ইসলাম ফাযিল মাদরাসার শিক্ষক মো. শাহিন তার প্রতিষ্ঠানের উপবৃত্তির তালিকা নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী শাহনাজের কাছে গেলে তিনি তালিকা না দেখেই ওই অফিসের আরেক কর্মচারী মহিউদ্দীনের কাছে যেতে বলেন। শিক্ষক শাহিন মহিউদ্দীনকে না পেয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। বেশ কিছুক্ষণ পর মহিউদ্দীন অফিসে এলে শিক্ষক শাহিন তালিকাটা দিতেই তিনি বলেন, এসব আমার কাজ না বলেই অন্য আরেকজনের কাছে জমা দিতে বলেই উপজেলা আঙ্গিনায় চলা একটি অনুষ্ঠানের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে থাকেন।

এসময় শিক্ষা অফিসে উপস্থিত থাকা জনৈক ব্যক্তি একজন শিক্ষককে এভাবে ঘুরাঘুরি করাতে দেখে তাকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে বের হয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফোনে হয়রানি করার বিষয়টি জানাতে চাইলে অফিসের আরেক কর্মচারী দৌড়ে এসে জনৈক ব্যক্তিসহ শিক্ষক শাহিনকে অফিসে নিয়ে অবশেষে তার উপবৃত্তির তালিকাটা হাতে নিয়ে দেখেন তাতে সভাপতি আর প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর নেই। কিন্তু তার আগেই সেই শিক্ষককে তালিকাটা জমা দিতে কয়েকজনের কাছে ঘুরাফেরা করতে হয়েছে। অথচ প্রথমেই যদি তালিকাটা হাতে নিয়ে দেখা হতো তবে তাকে ওভাবে এ টেবিল ঐ টেবিলে ঘুরাঘুরি করতে হতো না আর স্বাক্ষরটাও নিয়ে এসে ও দিনই তালিকাটা জমা করে দেয়া যেতো।

বিভিন্ন গোপন সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়মে কোন কর্মচারী ৩ বছরের অধিক একই কর্মস্থলে থাকার নিয়ম না থাকলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী শাহনাজ দীর্ঘ ১০-১২ বছর যাবৎ একই অফিসে কর্মরত আছেন। তবে এ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী বছরের পর বছর একই অফিসে বহাল আছে এমন তথ্যও সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে অফিস সহকারী শাহনাজ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণের সময় প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা নেয়ার এবং আবুল হাসেম মাস্টারের “হাটহাজারীর ইতিহাস গ্রন্থ” নামক বইয়ের বিক্রয়লব্দ টাকার হিসাব লেখকের ছেলেকে না দিয়ে গড়িমসি করতেও শোনা গেছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিফ সহকারী শাহনাজের কাছে জানতে চাইলে সে কিছুক্ষণ নিরব থেকে বলেন, কই এমন কিছুই তো হয়নি। এরপর আপনি কয় বছর যাবৎ এ অফিসে কর্মরত আছেন প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, হবে আর কি? কেন? কি জন্য? আপনি অফিসে আসেন বসে কথা বলব। এগুলো তো আমি বুঝি না ইত্যাদি বলতে থাকেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আসা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অফিসের কর্মচারীদের কাছে হয়রানি হবার ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি হয়রানির বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, ওই তালিকায় সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর ছিলো না তাই তালিকায় স্বাক্ষর নিয়ে এসে অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছিলো মাত্র।

Similar Posts

error: Content is protected !!