পরকিয়া! অষ্টগ্রামে স্বামীকে ফাঁসাতে আত্মহত্যা চেষ্টা

মোঃ নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম প্রতিনিধি ।।

মেহেদীর দাগ এখনো শুকায়নি। মাত্র তিন মাস আগে পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে বাহাদুরপুর বড়হাটির মৃত সাচ্চু ভূইয়ার মেয়ে স্বর্ণার (১৮)। কিন্তু বিগত তিন মাসেও সে ভুলতে পারেনি তার পুরাতন প্রেমিককে। নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগ রাখে তার সাথে। এতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তার স্বামী শফিকুল ইসলাম (২৫)। এতে স্বর্ণা ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের শরীরে নিজেই কাঁচ দিয়ে আঘাত করে সারা শরীরে জখম করে আত্মহত্যা চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল গ্রামে। বর্তমানে সে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখতে গেলে আহত স্বর্ণা অসংলগ্ন কথা বার্তায় স্বামীকে অভিযুক্ত করে। এবং প্রতিবেদককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক কাউসার আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন- এ বিষয়ে কথা বলতে হলে আদালতে গিয়েই বলব। আমি আপনাকে কোনো তথ্য দিতে পারবো না।

কথা হয় স্বর্ণার স্বামী অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, স্বর্ণা আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের পর থেকেই অন্য একটি ছেলের সাথে সে পরকিয়ায় লিপ্ত। তাকে পরকিয়ায় বাঁধা দিলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে সে আমার প্রথম স্ত্রীর চার বছরের শিশুসন্তান মরিয়মকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে। বিয়ের আগেই আমার সন্তান সম্পর্কে তার বড়ভাই ও মাকে অবহিত করেছি। শফিক তার ওপর আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে (স্ত্রী) পরকিয়ায় বাঁধা দেয়ায় নিজেই আজ রাতের কোনো এক সময় নিজের শরীরে ভাঙ্গা কাঁচ দিয়ে আঘাত করে সারা শরীরে জখম করে এবং আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। একই কথা জানালেন স্বর্ণার শাশুরি ও প্রতিবেশীরা।

অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মোল্লাহ এ প্রতিবেদককে জানান, আমি আহত মেয়েটিকে দেখেছি। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।