ঢাকাস্থ নিকলী ছাত্রপরিষদের জাঁকজমকপূর্ণ বনভোজন অনুষ্ঠিত

মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল, বিশেষ প্রতিনিধি ।।

শেকড়ের টানে মিলিত হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া নিকলী উপজেলার বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা। পারস্পরিক সহযোগিতা-সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে তারা এগিয়ে যাবার শপথ নিয়েছেন একসাথে।

ঢাকাস্থ নিকলী ছাত্রপরিষদের যাত্রা শুরু ২০১০ সাল থেকে। গত শনিবার (১৩ এপ্রিল ২০১৯) সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর, নারায়ণগঞ্জে প্রথমবারের মতো বনভোজনে যায় সংগঠনটির বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। সেখানে সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যবৃন্দ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র সামনে থেকে বাস ছেড়ে সোনারগাঁও-এর পথে রওনা দেয় বনভোজনের বাস। সোনারগাঁ পৌছার পর পরই বনভোজনে অংশগ্রহণকারী সকলকে নিয়ে গ্রুপ ছবি তোলা হয়। গ্রুপ ছবি তোলার পর বনভোজনে উপস্থিত সকলের পরিচয় করিয়ে দেন উপদেষ্টা মেহেদি হাসান হিমেল। সারাদিন যে সকল কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি কাটানো হবে তার বিস্তারিত বিষয় নিয়ে কিছু বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল।

বনভোজনে খেলার পর্বে ছিলো ২টি বিশেষ আয়োজন। প্রথম খেলায় নির্দিষ্ট দূরত্বে বল নিক্ষেপে লক্ষ্যভেদ প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার তুলে নেন সানি রায়হান। দ্বিতীয় পুরস্কার আব্দুল্লাহ আল রোমান এবং তৃতীয় পুরস্কার অর্জন করেন মুখলেছুর রহমান শীস।

নির্দিষ্ট দূরত্বে গোলপোস্টে বল পাঠানোর দ্বিতীয় খেলায় প্রথম পুরস্কার তুলে নেন নাহিদা আলম (তন্নী)। দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করেন মাহিয়া মতিন (আনিকা) এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন নিকলী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ এম রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জনি। এই খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়ে গেলে অবস্থান নির্ধারণের জন্যে একাধিক পর্ব পরিচালনা করতে হয়।

দুপুরের খাবার শেষে সকলে মিলে পানাম সিটি পরিদর্শন করতে যায়। সেখানে বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নেয়া বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সংগঠনের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

আসন্ন রমযান মাসে সংগঠনের উদ্যোগে সকলের সম্মতিতে ইফতারের আয়োজনের তারিখও নির্ধারণ করা হয়। আগামি ১০ মে শুক্রবার ইফতারের সময় নির্ধারণ করে হয়। সংগঠনের সার্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দেন সংগঠনের অন্যতম পৃষ্টপোষক ও নিকলী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ এম রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জনি, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল, মোঃ আশরাফুল আলম, মেহেদি হাসান হিমেল, রবিন সাহা তন্ময়, মোঃ ওয়াসিম আহমেদসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। সবাই সংগঠনের ভবিষ্যত সকল কার্যক্রমে নিজেদেরকে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও পেশাগত ব্যস্ততায় বনভোজনে উপস্থিত থাকতে না পারায় ঢাকাস্থ নিকলী ছাত্রপরিষদ-এর প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যতম পৃষ্ঠপোষক মোয়াজ্জেম হোসেন লিটন, এনায়েত কবির শোয়েব, আবুল খায়ের উজ্জ্বল, কফিল উদ্দিন, আবু ইমরান রানা, মোঃ কাওছার এবং ঢাকাস্থ নিকলী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক কারার মোশারফ হোসেন, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আজমল আহসান ও দপ্তর সম্পাদক তোফায়েল আহছান সময়-সময় বনভোজনের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন।

এমন জাঁকজমকপূর্ণ বনভোজন আয়োজনে সকলের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য পৃষ্ঠপোষকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে আরো বৃহৎ পরিসরে বনভোজনসহ ঢাকাস্থ নিকলীর ছাত্র-ছাত্রী ও নিকলীকেন্দ্রিক যাবতীয় কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংগঠনের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল।