আমরাই আমাদের ছোট করি : সাদিয়া জাহান প্রভা

অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। মিজানুর রহমান লাবু পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ঘূর্ণির শুটিং করছিলেন মিরপুর ডিওএইচএসের ভেতর একটি শুটিং হাউসে। শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে তিনি তার পরিবার, কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারসহ নানা বিষয়ে আলাপ করেন। সেই আলাপচারিতার সূত্র ধরেই বিশেষ সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো।

 

মিডিয়ায় কাজ করতে হলে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ- গ্ল্যামার, নাকি অভিনয়ে দক্ষতা?
সাদিয়া জাহান প্রভা : অবশ্যই অভিনয়। প্রথমে অভিনয় পারতে হবে। তার পরে গ্ল্যামার দরকার হবে। আমাকে দর্শক প্রথমত গ্ল্যামারের জন্য গ্রহণ করেছেন। সেটা সত্যি। তবে আমি এখন পর্যন্ত টিকে আছি শুধু গ্ল্যামারের জোরে নয়, অভিনয় দিয়েই। অভিনয় না পারলে এখন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারতাম না।
অনেক মেয়েই তো সুন্দর। তাদের দিয়ে তো অভিনয় হয় না। শুধু গ্ল্যামার দিয়ে মিডিয়ায় টিকে থাকা যাবে না। কোয়ালিটি না থাকলে, শুধু সুন্দর হয়ে কাজ হয় না। গ্ল্যামার হলো একটা আর্টিস্টের জন্য প্লাস পয়েন্ট মাত্র।

মিডিয়ায় কাজ করার ক্ষেত্রে শিল্পীর জন্য প্রচারমাধ্যমের কী ধরনের ভূমিকা থাকা উচিত বলে মনে করেন?
প্রভা : মিডিয়া একটা প্রফেশনাল জায়গা । আর অভিনয় আমার পেশা। একজন প্রফেশনাল শিল্পী তার কাজটি কীভাবে করছে, তা তুলে ধরাই বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমের কাজ। আর কাজটি আমি ঠিকভাবে করছি কি না, সেটা সাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়াটাই মূল বিষয়। সাংবাদিকরাও একটা পেশায় আছেন। তাদেরও ব্যক্তিজীবনে খারাপ-ভালো অনেক বিষয় থাকতে পারে। সে বিষয়ে একজন শিল্পীর কখনোই কোনো আগ্রহ থাকে না। আমার কথা একটাই- আপনি কাজের ক্ষেত্রে সৎ কি না, এটাই বিবেচ্য।
একজন শিল্পী কটি প্রেম করছেন- এটা কিন্তু মুখ্য বিষয় নয়। তিনি কী রকম কাজ করছেন, সেটা মুখ্য বিষয়। আপনারা আমাদের উৎসাহ দেবেন ভালো কাজ করার জন্য, এটাই হওয়া উচিত।

https://www.flickr.com/photos/128704290@N04/15558251645/

তারকা হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আপনাদের প্রতি দর্শকদের আগ্রহটা বেশি। সে ক্ষেত্রে অভিনয়ের বাইরেও আপনাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে ভক্তরা জানতে চান। এটা তো আপনি অস্বীকার করতে পারেন না।
প্রভা : একটি পরিবারের কেউ অস্বাভাবিক একটা কাজ করে ফেলেছেন, এখন সেই কাজটি ধরে, তার খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে বারবার যদি তার সমালোচনা করা হয়, তাহলে কি ভালো কিছু হবে? সাংবাদিকরাও আমাদের কলিগ। আমরা সবাই একই পরিবারের। বিনোদন-সাংবাদিকরাও যেমন এ অঙ্গনে কাজ করেন, আমিও বিনোদন নিয়ে কাজ করি। এখানে একজন অপরজনের পেছনে লেগে থেকে কোনো লাভ নেই। এতে আসলে আমরাই আমাদের ছোট করি।

শোনা যাচ্ছে, আপনি সিনেমায় কাজ করতে আগ্রহী। বিষয়টি কতটুকু সত্য?
প্রভা : আমি মিডিয়ায় কাজ শুরু করার পর থেকেই সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব পেয়ে এসেছি। গিয়াস উদ্দীন সেলিমের সিনেমা মনপুরায় আমার অভিনয় করার কথা ছিল। সে সময় অনেক পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে খবরও প্রকাশিত হয়। সবই ঠিক ছিল। কিন্তু তখন আমার বাবা-মা চাননি যে আমি সিনেমায় কাজ করি। কারণ, তখন আমার বয়স কম ছিল। ‘মেরিল’-এর বিজ্ঞাপনে কাজ করার পরও আমি অনেক সিনেমায় অভিনয় করার প্রস্তাব পেয়েছি। সেসব ছিল বাণিজ্যিক ছবি।
সব অভিনয়শিল্পীরই ভালো সিনেমায় কাজ করার স্বপ্ন থাকে। আমি তার ব্যতিক্রম নই। তা ছাড়া এখন আমাদের সিনেমার পরিবেশ অনেক ভালো। নতুন মেয়েরা আসছেন। তারা অনেক ভালোও করছেন। সুতরাং আমি মনে করি, এখনই সিনেমায় অভিনয় করার পারফেক্ট সময়। ভালো গল্পের, চরিত্রের সিনেমা পেলে অবশ্যই কাজ করব।

আপনি বললেন যে বাবা-মা নিষেধ করায় সিনেমায় আসতে পারেননি। এখন কি তাহলে আপনার বাবা-মা এবং স্বামীর পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই?
প্রভা : না। এখন কোনো বাধা নেই। আমার স্বামী শিক্ষিত। তা ছাড়া মানুষ হিসেবেও তিনি অসাধারণ।
আমার কাজের বিষয়ে তার কোনো বাধা নেই। বরং তিনি আমার কাজে অনেক উৎসাহ দেন। আর আমার বাবা-মার পক্ষ থেকেও এখন আর কোনো নিষেধ নেই।

আপনার বিষয়ে একটা কথা প্রচলিত আছে যে আপনি নাকি অনলাইনের নিউজ পোর্টালগুলোকে কখনোই সাক্ষাৎকার দেননি। এটা কি সত্যি?
প্রভা : হ্যাঁ, এটা একদমই সত্যি কথা। আমি এখন পর্যন্ত কোনো অনলাইন পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিইনি। না দেওয়ার কারণ হলো অনলাইন পত্রিকাগুলো কোনো বিষয় না জেনেই আমাকে নিয়ে অনেক নেতিবাচক খবর ছেপেছে। আমাকে ফোন করেও কখনো জেনে নেয়নি যে প্রকৃত বিষয়টি কী? অললাইনে আমাকে নিয়ে উল্টাপাল্টা নিউজ হয়। তারপর সেটা ফেসবুকে একজন অন্যজনকে ট্যাগ করে। এ বিষয়গুলোর জন্য অনলাইন পত্রিকার কারো সামনে বসে কোনো সাক্ষাৎকার দিইনি।

আপনার সঙ্গে কথা না বলে যারা নিউজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কি কোনো প্রতিবাদ করেছেন কখনো?
প্রভা : আমি এর কী প্রতিবাদ করব? তাদের যা ইচ্ছে তা-ই লিখছে। এক-এক দিন তারা নতুন নতুন ঘটনা সৃষ্টি করছে। এমনও সংবাদ হয়েছে যে আমি মা হতে পারব না। আবার তার পরের দিন নিউজ হবে- আমি মা হতে পারব। তারপর লিখবে, আমি নাইট ক্লাবে ঘুরি। সেগুলো ফেসবুকে শেয়ার হচ্ছে, ট্যাগ করছে। এ ধরনের সমস্যার কারণে আমি এখন ফেসবুকও ব্যবহার করি না। এখন ফেসবুকে আমার কোনো আইডি নেই।
আসলে আমি বুঝতে পারি না, তারা আমাকে নিয়ে সমালোচনার করার এত সময় কোথায় পান। আমি আসলে বুঝি না এতে তাদের কী লাভ।

https://www.flickr.com/photos/128704290@N04/15558251175/

সম্প্রতি গুজব রটেছে, আপনি এক সহশিল্পী সঙ্গে আবার প্রেম করছেন। আসলে সহশিল্পীর সঙ্গে কেমন সম্পর্ক থাকা উচিত বলে মনে করেন?
প্রভা : এটা আমাদের দেশের একটা সমস্যা। একজন শিল্পীর সঙ্গে একটু ভালো সম্পর্ক থাকলেই সেটা নিয়ে একটা গসিপ কিছু লিখবেই। আমরা একে অন্যের সহকর্মী। সেই সূত্র ধরে মাঝেমধ্যেই ঘুরতে যাই। অনেক সময় অন্যের সেটেও ঘুরতে যাই। এ রকম অনেক সময় গেছে যে সন্ধ্যায় আমাদের কাজ নেই, সেই সুযোগে সব কলিগ মিলে খেতে গেছি। অন্য আরেক সেটে ঘুরতে গেছি। এগুলো খুবই সাধারণ বিষয়।
আসলে, সত্যি কথা বলতে, মানুষ আমাকে নিয়ে অনেক বেশি আগ্রহী। আমি যেটা করব সেটাই একটা বড় এন্টারটেইনমেন্ট হয়ে গেছে। আপনিই বলেন, আমরা ঘুম থেকে উঠেই সহশিল্পীর সঙ্গে কাজ করছি। প্রায় সারাক্ষণ তাদের সঙ্গে থাকতে হয়। একজন শুটিং বয় থেকে শুরু করে শুটিং টিমের সবার সঙ্গে থাকতে হয়। এদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হবে না তো কাদের সঙ্গে ভালো হবে? সহশিল্পীর সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া না থাকলে ভালো কাজ করাও সম্ভব নয়।
এই সেটে আজকে শতাব্দীদার সঙ্গে কাজ করছি। আমি শতাব্দীদার সঙ্গে হেসে হেসে ছাদে উঠলাম। তার মানে কি ওনার সঙ্গে আমার প্রেম হয়ে গেছে। নো, নেভার।

আমি দুঃখিত, তবু জানার আগ্রহ থেকেই বলছি, আপনার জীবনে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে সেটা কি ভুল ছিলো?
প্রভা : আমি কোনো পত্রপত্রিকাকে বলিনি যে আমি ভুল করেছি। এভাবে বলার জন্য দুঃখিত। হ্যাঁ, বিশ্বাস করেছি। বিশ্বাস করে যদি কোনো ভুল করে থাকি, তাহলে আমি সেটা করেছি।

বেশ খানিকটা পথ পেরিয়ে এসেছেন। ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে কোন সময়টাকে আপনি টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করেন?
প্রভা : আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট শুধু যে একটা, সেটা বলা যাবে না। তবে মডেলিংয়ের জন্য মেরিল বিউটি সোপের বিজ্ঞাপনটি। আর নাটকের ক্ষেত্রে অনেকগুলো নাটক রয়েছে, যেগুলো আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে।

আপনি বেশ কিছু দিন মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন। কেন?
প্রভা : সে সময় আমার লেখাপড়ার অনেক চাপ ছিল। যদিও সে সময় আমার কাছে অনেক কাজের প্রস্তাব এসেছে। আমি তা ইচ্ছে করেই কাজ করিনি। কারণ আমি পড়াশোনাকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়েছি।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
প্রভা : ধন্যবাদ। আমার দর্শকদের শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।