লাখাইয়ে রমজানকে সামনে রেখে নিম্নমানের ইফতার পণ্যে সয়লাব

মহসিন সাদেক, লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ।।

শুরু হলো ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ও মৌলিক ফরজ এবাদতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টি আর তার কাছ থেকে পুরুস্কার লাভের আশায় সুবেহ সাদিক থেকে সূর্য্য অস্ত পর্যন্ত সকল ধরনের পানাহার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা, সেই সাথে অশ্লীলতা ও সকল অসার কথাবার্তাসহ অন্যায় থেকে বিরত থাকবে।

রোজাদারদের সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্ত হচ্ছে ইফতারের সময়। সারাদিনের উপবাস শেষে ইফতারের আয়োজনে মেতে উঠে রোজাদারগণ। আর সাথে যোগ দেন অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও। সৌহার্দ ও সম্প্রীতির এ এক অন্যরকম দৃশ্য।

দিনের শেষে ইফতারের আয়োজনে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী থাকলে ইফতারের শুরুটা খেজুর আর কোমল পানীয় (সফট ড্রিংক পাউডারের মিশ্রণে তৈরি পানি) দিয়ে শুরু হয় রোজাদারদের।

রমজান মাসে অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় সফট ড্রিংক ও মুড়ির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আর এ সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের জন্য দেদারসে বিক্রি করে ভেজাল ও নিম্নমানের সফট ড্রিংক পাউডার। রমজান মাস এলেই এসব নকল পণ্যে ছড়াছড়ি বেড়ে যায়।

দোকানে সাজানো এসব সফট ড্রিংক পাউডারের প্যাকেট দেখে বোঝার উপায় নেই এসব পণ্য নিম্নমানের ও নকল। অখ্যাত কোম্পানির এসব পণ্য বিএসটিআই-এর অনুমোদন বিদ্যমান। কিন্তু বিএসটিআই’র এই সীলমোহর যথযথ কর্তৃপক্ষ কিনা তা নিয়ে সন্দিহান সচেতন ক্রেতাগণ।

এছাড়াও ইফতারকে কেন্দ্র করে হাটবাজারের স্থায়ী দোকানগুলো ছাড়াও ফুটপাতে পসরা সাজে ইফতার সামগ্রীর। সরেজমিনে দেখা যায় অস্বাস্থ্য ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে পিঁয়াজু, ছানা, জিলাপী, আলু চপ, বেগুনী, ধবধবে সাদা মুড়ি সহ মুখরোচক খাবার। আর এসব খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় দীর্ঘদিনের পোড়া কালো তেল।

অপরদিকে বাজারে সয়লাব করা বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত মুড়ির প্যাকেটে লেখা “ইউরিয়ামুক্ত” বাণী ক্রেতাদের দুঃশ্চিন্তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজারে প্রাপ্য মুড়ির মাধ্যমে কি তাহলে আমরা ইউরিয়া খাচ্ছি? আর প্রাপ্ত মুড়িই কতটুকু ইউরিয়ামুক্ত।

চিকিৎসকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, এমনিতেই এসব পণ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। তারপর আবার সারাদিনের উপবাস শেষে এসব খাবার গ্রহণ বিশেষ করে সফট ড্রিংক ও ভেজাল মুড়ির কারণে গ্যাস্ট্রিক, আলসার, মুত্রে জ্বালাপোড়াসহ হতে পারে কিডনী পীড়া।

সচেতন মহলের দাবি সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাজার মনিটরিং করবেন।