প্রাণহানী এড়াতে নতুন ভবন চায় দক্ষিণ জারইতলা প্রাইমারি স্কুল

শেখ মোবারক হোসাইন সাদী, বিশেষ প্রতিনিধি ।।

দক্ষিণ জারইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৭৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়; ভবন নির্মাণ হয় ১৯৯৪ সালে। দীর্ঘ চার দশকেরও পুরনো বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে নানামুখী সমস্যা।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলটিতে একটিমাত্র ভবন। একেবারে জীর্ণশীর্ণ। পুরো স্কুলে রয়েছে তিনটি শ্রেণীকক্ষ, অন্য ছোট্ট কক্ষটি অফিসিয়াল ব্যবহারের জন্য।

অফিস কক্ষে ঢুকতেই চোখে পড়লো স্কুলটির দৈন্যদশা। বৃষ্টির পানিতে স্যাঁতস্যাঁতে ছাদ। ছোট-ছোট খানাখন্দে ভরা কক্ষের মেঝে; কাদা-বালিতে লেপ্টে রয়েছে। দেখতে অনেকটা গোয়ালঘরের মতো।

কথা হয় স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা হেনা আক্তারের সাথে। তিনি জানালেন, একটি মাত্র ভবন। তার ওপর ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। সব সময় একটা ভীতি কাজ করে। সমস্যাগুলো প্রশাসনকে জানানো হলেও তেমন কোনো অগ্রগতি দেখছি না।

সহকারি শিক্ষিকা কুলসুম আক্তার বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত ক্লাসরুম না থাকায় একই রুমে একই সময়ে দু’টি ক্লাস পরিচালনা করি। বিদ্যালয়ের মাঠে সাপ্তাহিক হাট বসায় আমাদের ও ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষিকা বলেন, উপজেলা থেকে আমাদের চাপ দেয় ক্লাস করানোর জন্য। ফলাষল ভালো করানোর জন্য। কিন্তু আমাদের সমস্যাগুলো যেন চোখে পড়ে না।

তানভীর আহমেদ সেলিম বলেন, দক্ষিণ জারইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেহাল অবস্থা। যে কোনো সময় ভবন ধসে পড়তে পারে। অতিরিক্ত কোনো ভবন না থাকাই ছাত্রছাত্রীরা ঝুঁকিপূ্র্ণ ভবনে পড়াশুনা করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আঃ হালিম বলেন, প্রাণের ভয় কার না আছে! এ ভয়ে আমি গত কয়েক দিন আগেও আবেদন করেছি। আতি তাড়াতাড়ি নতুন ভবন চই। কারণ ভীতিকর পরিস্থিতির জন্যে দিন দিন ছাত্রছাত্রী কমে যাচ্ছে। প্রাইভেট স্কুলমুখী হচ্ছে সবাই। এতে করে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঃ আওয়াল বলেন, আমরা ভবন মেরামতের জন্য ৫০ হাজার টাকা পেয়েছি। তাই কিছু টাকা আমি ভর্তুকি নিয়ে একটা টিন শেড তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কারণ এ ভবন যে কোন সময় ধসে পড়তে পারে।

ঝুকিপূর্ণ হিসাবে নতুন ভবনের অনুমোদন চেয়ে সংসদ সদস্যের সুপারিশ সহকারে পাঠানো হয়েছে বলে জানালেন থানা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)। এছাড়াও নিকলী উপজেলার আরো ৮টি ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের ব্যাপারেও অনুমোদনের চিঠিও পাঠানো হয়েছে।