শিবগঞ্জে মামী-ভাগ্নে পরকিয়ার পর চাচি-ভাতিজার লাশ উদ্ধার

মহাস্থান (বগুড়া) প্রতিনিধি ।।

শিবগঞ্জের মোকামতলায় চাঞ্চল্যকর পরকিয়া কাণ্ডে মামীকে হত্যার পর ভাগ্নের আত্মহত্যার ঘটনার এক সপ্তাহর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বগুড়ার শিবগঞ্জের দেউলি ইউনিয়নে পরকিয়া কাণ্ডে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে চাচি-ভাতিজার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নিহতদের মরদেহ সোমবার (২০ মে ২০১৯) সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশে আখক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন, উপজেলার গাংনগর ইউনিয়নের মাঝ পাড়া গ্রামের সু বন্ধু দাসের স্ত্রী চৈতী রাণী দাস (২৭) ও অমল চন্দ্র দাসের ছেলে কনক চন্দ্র দাস (২০)। নিহতরা সম্পর্কে চাচি-ভাতিজা।

এলাকাবাসী জানান, চাচি চৈতী রাণী ও ভাতিজা কনক দাসের মধ্যে বেশ কিছুদিন হল পরকিয়া সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। তাদের ভিতর চাচি-ভাতিজার সম্পর্ক বলে দীর্ঘদিন মেলামেশা করলেও কেউ সন্দেহ নজরে দেখেনি। কিন্তু বেশ কয়েকদিন আগে দু’জনের পরকিয়া প্রেমের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বৈঠক করে দেন-দরবারে তাদের শাসন করা হয়।

নিহতের পরিবারিক সূত্র জানান, রোববার রাতে চাচি চৈতী রাণী ও ভাতিজা কনক ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাদের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পায় না। এক পর্যায়ে সকালে বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে একটি আখক্ষেত থেকে দু’জনের মরদেহ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী শিবগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়।

এ ঘটনায়, মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি সনাতন চন্দ্র সরকার জানান, চৈতী রাণীর স্বামী সুবন্ধু দাস একজন কৃষক। কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। রোববার রাতের কোন এক সময় স্ত্রী বিছানা থেকে চলে যায়। চৈতী রাণী দুই সন্তানের জননী। কনক তার বড় ভাইয়ের ছেলে। তারা একই স্থানে বসবাস করার সুবাদে তাদের ভিতর পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তবে পরিবার থেকে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত না করায় ময়নাতদন্ত করতে লাশ মর্গে পাঠানো হবে কি না তার সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।