হাটহাজারীতে ছেলেধরা সন্দেহে তিনজনকে গণধোলাই

মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ।।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলাতে ছেলেধরা সন্দেহে তিন প্রতারককে উত্তেজিত জনতা গনধোলাই দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই ২০১৯) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়ন এলাকায় এ ঘটনা সংগঠিত হয়। প্রতারক চক্রের চার সদস্য থাকলেও কৌশলে একজন পালিয়ে যায়। প্রায় কয়েকশত উৎসুক জনতা ভীড় জমায়। তাদের তিনজনকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করে ও তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার উত্তেজিত জনতা আগুনে পুড়িয়ে দেয় বলেও জানা যায়। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অবগত হলে হাটহাজারী থানা পুলিশকে জানালে দ্রুত পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানা হাজতে নিয়ে যায়।

গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিদ্বয় হল- লোহাগাড়া উপজেলার আদু নগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের শাহীপাড়ার নুর ইসলাম (৬০), ও আবদুল মালেক (৬০), পদুয়া ইউনিয়নের পদুয়া মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা প্রাইভেটকার চালক নুর কবির (২৮)।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য এক অজ্ঞাত মহিলাকে রাজমুহনী তাবিজ দেবে বলে তার স্বর্ণের কানের দুলসহ স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। মহিলাটি তাদের প্রতারণা দ্রুত বুঝতে পেরে চিৎকার করলে স্থানীয় কিছু লোক তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেট গাড়ি করে দ্রুত রাঙামাটি সড়ক দিয়ে চলে যায়। পথিমধ্যে তাদেরকে সন্দেহ হলে এলাকার কিছু লোক তাদের ধাওয়া করে ছিপাতলী ইউনিয়ন এলাকায় আটক করে। পরে তাদের বোয়ালীয়া কুল বাজারে নিয়ে গেলে ছেলেধরা সন্দেহে উত্তেজিত জনতা বেধড়ক মারধর করে। প্রতারক চক্রদ্বয় গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হলেও তাদের প্রাইভেট গাড়িটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় তাদের পুলিশ এসে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

উদ্ধারকারী থানার এসআই জাহাঙ্গীর মোল্লা মুঠোফোনে বলেন, থানা পুলিশ স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাদের উদ্ধার করেছি। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আসলে তারা ছেলেধরা বা (কল্লা কাডনি) নাকি জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এটা মূলত গুজব সৃষ্টি। তারা হল প্রতারক চক্রের সদস্য।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর সত্যতা স্বীকার করে বলেন গণপিটুনির শিকার তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে তারা প্রতারক বলে জানতে পেরেছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।