কটিয়াদীতে গণধর্ষণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায়, আদালতে মামলা

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার দুই সন্তানের জননীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক গণধর্ষণের নগ্নভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারণ করে স্থানীয় তিন তরুণ।

তারা ভিডিওচিত্রটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নেয় ওই নারীর প্রবাসী স্বামীর গচ্ছিত ২৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার। চাহিদামতো আরও টাকা দিতে না পারায় ধর্ষক দল শেষ পর্যন্ত নগ্নভিডিও চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় স্বামী ও বাবার বাড়ি থেকে বিতাড়িত গৃহবধূ অবশেষে আদালতের আশ্রয় নেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় এনে আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। এ বর্বরোচিত ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন মহিলা পরিষদ ও হিন্দু কমিউনিটি লিডাররা।

আদালতে করা অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা গ্রামের দুই সন্তানের জননীর স্বামী ১০-১২ বছর ধরে বিদেশে রয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে আচমিতা বাজারের একটি ফ্ল্যাক্সি ও বিকাশের দোকানে যেতেন।

এ সম্পর্কের সূত্র ধরে দোকানি রেজা শাহ পিংকি তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেয়। ২৪ মার্চ রোববার বিকালে এ টাকা পরিশোধের কথা বলে তাকে কৌশলে দোকানে ডেকে নিয়ে হঠাৎ দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে অন্য দুই সহযোগী মাসুম ও বাবুলকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ সময় গণধর্ষণের নগ্নভিডিও চিত্র ধারণ করে তারা। লোকলজ্জা ও ভয়ে এ বর্বরোচিত ঘটনা আড়াল করে রাখেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনার ক’দিন পর থেকেই ওই ধর্ষক দল ধারণকৃত নগ্নভিডিও চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতে থাকে।

একই কায়দায় লম্পট ধর্ষকরা তার কাছ থেকে প্রবাসী স্বামীর গচ্ছিত ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তারপর আরও টাকা চাইলে তিনি দিতে না পারায় মোবাইলে ধারণকৃত এসব নগ্নভিডিও চিত্র ছড়িয়ে দেয় অর্থলোভী ধর্ষক দল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও চিত্র দেখে স্বামীর পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে যান।

কিন্তু তারাও তাকে কুলটা বলে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ পরিস্থিতিতে কূলহারা এ নারী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচারপ্রার্থী হয়ে কোনো বিচার না পেয়ে ২ জুলাই কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালতের বিচারক মো. সোলায়মান বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেন। ইতিমধ্যেই আদালত এ ঘটনায় স্থানীয় দুই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

অন্য দুই সাক্ষী ধর্ষকদের ভয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাক্ষ্য দিতে আদালতে যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, ১ আগস্ট আদালতে দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলায় ধর্ষক ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে তিন তরুণ গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে রেজা শাহ পিংকি, মতিউর রহমানের ছেলে মাসুম ও জব্বারের ছেলে বাবুলকে আসামি করা হয়।

ভিকটিমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাইজুল করিম মবিন, এ ঘটনায় ২ জুলাই কিশোরগঞ্জের ২নং নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ উত্থাপনের পর আদালতের বিচারক ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। কিশোরগঞ্জ জেলা মহিলা পরিষদের সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ সুলতানা সাজিদা ইয়াসমিন বলেন, এ বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে।

তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। লম্পট ধর্ষকদের আটক করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র চন্দ্র ভৌমিক দোলন।

 

সূত্র : যুগান্তর