রায়নগর উপনির্বাচন : কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান!

আজিজুল হক বিপুল, মহাস্থান (বগুড়া) প্রতিনিধি ।।

আগামী ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ১২নং রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শেষ মূহুর্তে প্রচার প্রচারণায় প্রার্থীরা ক্লান্তিহীন গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দিবা-রাত্রি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রার্থীরা ভোট চাইছেন। পোস্টারে ছেয়ে গেছে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বাসস্ট্যান্ড বন্দর এলাকা। উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে প্রচারণা। কিন্তু কে হচ্ছেন রায়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান? এ নিয়ে ভোটারদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই।

রায়নগর ইউনিয়ন ঘুরে জানা জায়, ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার উপনির্বাচনে ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বী অংশগ্রহণ করেছেন। এরা হলেন- রায়নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মিল্লাত। তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের মনোনীত উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তাজুল ইসলাম তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ঠিকাদার ও সমাজসেবক শফিকুল ইসলাম শফি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন টেবিল ফ্যান প্রতীকে। স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে। স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিম পারভেজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঘোড়া প্রতীকে।

এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৪২৭। এর মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৭২৭ এবং মহিলা ভোটার ১১ হাজার ৭০০ জন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নানা তথ্য। রায়নগর উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ৩জন। নির্বাচনী মাঠে এই ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার এলাকাভিত্তিক নির্বাচন হবে। যে এলাকায় যার ভোটার সমর্থক যত বেশি, তিনিই হবেন রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। নিজ নিজ এলাকা যিনি ঠিক রাখতে পারবেন বিজয়ের মালা তিনি পড়বেন।

নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সরকার সমর্থিত উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী। সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে উন্নয়নের প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোটাররা তাদের ভোট দেবেন।

টেবিল ফ্যান প্রতীক নিয়ে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট ঠিকাদার ও সমাজসেবক শফিকুল ইসলাম সফি। তিনি জানান, সাধারণ ভোটাররা আমার পক্ষে আছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রসারিত, সবার সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, সর্বোপরি সব শ্রেণী-পেশার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনে দেয়া ওয়াদাগুলো পূরণের যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।

এদিকে বাবার ইমেজকে কাজে লাগিয়ে একটা ভাল অবস্থানে আছেন বলে জানান রায়নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মিল্লাত। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি জানান, “আমার বাবা রায়নগর ইউনিয়নে জনগণের ভোটে পাস করে বেশ কয়েকবার জনপ্রতিনিধিত্ব করে গেছেন। আমিও একবার চেয়ারম্যান ছিলাম। আমার বিশ্বাস আমার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ও উন্নয়নের স্বার্থে ভোটাররা তাদের মূল্যবান ভোট আমার আনারস মার্কায় প্রয়োগ করবেন। তবে তিনিও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে রয়েছেন শংকায়।”

এদিকে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শংকায় ভোটাররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার বলেন, আমরা সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই। সুষ্ঠু নির্বাচনে যে প্রার্থী নির্বাচিত হয় তাকে আমরা স্বাগত জানাবো।

উল্লেখ্য, রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু এই ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করলে তার পদটি শূন্য হওয়ায় ২৫ তারিখে রায়নগর ইউনিয়নে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Similar Posts

error: Content is protected !!