লাখাইয়ে ঈদুল আজহায় বাড়ি ফেরা, ডেঙ্গু আতঙ্কে স্বজনরা

মহসিন সাদেক, লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ।।

সোমবার পবিত্র কোরবানীর ঈদ-উল-আজহা। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম। উৎসবমুখর এই ঈদকে কেন্দ্র করে আনন্দের কমতি না থাকলেও এবারের অবস্থা অনেকটাই ভিন্ন। কয়েকদিন যাবৎ যে আতংকটি দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে তা হলো মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুজ্বর। গত জুন থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতিদিন নতুন করে দেশের বিভিন্ন স্থানেও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপই বেশি দেখা যায়।

লাখাই উপজেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত সংখ্যা উল্লেখযোগ্য না হলেও ইতিমধ্যে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে কয়েকজনের। মৎস্য ও কৃষি ভাণ্ডারখ্যাত লাখাই উপজেলার কর্মজীবি মানুষের বেশিরভাগ মানুষই বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে অবস্থান করছেন; যারা ইতিমধ্যে পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ উদযাপনের আশায় নিজ এলাকায় আসতে শুরু করছেন।

এবারের ঈদের উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষের গ্রামে ফেরার আনন্দকে অনেকটা ম্লান করে দিচ্ছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। বাড়িতে আগত স্বজনরা ডেঙ্গু বয়ে আনছেন কিনা তা নিয়ে শংকায় আছেন বাড়িতে অবস্থানরত পরিবার-পরিজন। এছাড়াও শহর থেকে বাড়ি ফেরাদের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে কিনা এই আতংক এলাকাবাসীদের মাঝে এখন ঝেঁকে বসেছে।

এ ব্যাপরের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মাসুম জানালেন, ঢাকা বা অন্য কোথাও থেকে যদি কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে তবে পরিবারের অন্য যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারে; যদি এডিস ইজিপ্টি মশা থাকে, অন্যত্র আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তবে এখন পর্যন্ত লাখাইর স্থানীয় কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়নি। যদি আক্রান্ত কেউ আসে তাহলে দেখা যায় যে অন্য কোন এলাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সংক্রান্ত পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় আক্রান্তদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে টেস্ট করানোর জন্য পাঠানো হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তির তিনদিনের উপরে জ্বর, শরীর ব্যথা, বমির ভাব, শরীর দুর্বল, মাথা ঘুরানো, অরুচি দেখা দেয় তাহলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তবে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রতিটি মসজিদে জনসচেতনতার লক্ষে খুতবার সময় আলোচনার জন্য মসজিদের ইমাম সাহেবদের বলা হয়েছে এবং প্রতিটি বাড়িতে এডিস মশা বিস্তাররোধে করণীয় বিষয়গুলি তুলে ধরতে, সেই সাথে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্বলিত ব্যানার শাটানো হয়েছে। মাইকিং করানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।