সাত কোটিতেও ষাঁড়টি বিক্রি করতে রাজি নন মালিক

এক হাজার ৪০০ কেজি ওজনের একটি ষাঁড়ের দাম সাত কোটি রুপি উঠলেও বিক্রি করতে রাজি হননি এর মালিক।
শুক্রবার ভারতের সরদার বল্লভ ভাই পেটেল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে একটি ষাঁড় মেলায় যুবরাজ নামের এ ষাঁড়টি প্রদর্শন করা হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ষাঁড়টির মালিক মিরাট জেলার কারামভির সিং নামের এক কৃষক। তিনি যুবরাজকে সন্তানের মতো লালন পালন করেছেন।
কারামভির সিং বলেন, চান্দিগরের এক কৃষক যুবরাজের দাম করেছিলো ৭ কোটি রুপি। কিন্তু আমি বিক্রি করিনি। কখনো বিক্রি করবোও না। আমার টাকার প্রয়োজন নেই। টাকা দিয়ে সব কিছু কেনা যায় না।
তিনি হাসতে হাসতে বলেন, তাছাড়া এই যুবরাজকে দিয়েই আমি বছরে ৫০ লাখ রুপি আয় করি। কারামভির সিং জানান, যুবরাজ ১৪ ফুট লম্বা। গজের শীর্ষ পর্যন্ত ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উঁচু। ষাঁড়টিকে লালন পালন করতে তার অন্তত ২৫ হাজার রুপি খরচ হয়। তিনি প্রতিদিন ২০ লিটার দুধ খেতে দেন, পাঁচ কেজি আপেল খাওয়ান। এ ছাড়া ১৫ কেজি ঘাস, খড় খাওয়াতে হয়।
প্রতিদিন যুবরাজকে ৪ কিলোমিটার হাঁটাহাঁটিও করতে হয় বলে জানান তিনি।

মেলার আয়োজক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈষ্ঠ্য বিজ্ঞানী রবিন্দর সাঙয়ান বলেন, যুবরাজ শঙ্কর জাতের ষাঁড়। এর প্রজাতির নাম মুরাহ। এ ধরনের ষাঁড় ভারতের রোথাক এবং জিন্ড জেলায় পাওয়া যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, যুবরাজের বীর্য বিক্রি করে কারামভির সিং আয় করছেন। ভারতের উত্তর এলাকার রাজ্যগুলোতে তার বীর্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ষাঁড়টি প্রতিদিন সাড়ে তিন লিটার থেকে পাঁচ লিটার পর্যন্ত বীর্য দেয়। এটি পানির সাথে মিশ্রণ করে ৩৫ লিটারে পরিণত করা হয়। মিশ্রিত এ বীর্য কৃত্রিম মুরাহ প্রজাতির ষাঁড় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। একটি কৃত্রিম ষাঁড়ের জন্য ০.২৫ লিটার বীর্যের প্রয়োজন হয়। এর মূল্য এক হাজার ৫০০ রুপি।

তাছাড়া যুবরাজের মা প্রতিদিন ২৫ লিটার দুধ দেয় বলে জানান মেলার আয়োজকরা।

মেলায় মুরাহ প্রজাতি ছাড়াও থারপারকার, ব্রাউন সুইসসহ বিভিন্ন প্রজাতির ষাঁড়ের প্রদর্শনি হয়। তবে বিচারকদের বিবেচনায় যুবরাজের অবস্থান আলাদা। মিরাট জেলার পশুপালন বিভাগ যুবরাজের বীর্যের মান, জেনেটিক ইতিহাস বিবেচনা করে যুবরাজকেই সেরা বলে ঘোষণা করেছে।

সূত্র : নয়া দিগন্ত অনলাইন