লাখাইয়ে চামড়া থাকে সিন্ডিকেটের দখলে, নির্ধারিত মূল্য নিয়ে শঙ্কিত বিক্রেতা

মহসিন সাদেক, লাখাই (হবিগঞ্জ) ।।

সোমবার যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে মুসলামানদের অন্যতম বৃহত্তম উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় সামর্থ্যবান সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমান পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সাধ্য অনুযায়ী পশু কোরবানী করবেন। আত্মত্যাগ-আত্মসমর্পণ ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত ঈদুল আজহা উপলক্ষে ধনী-গরিব সকলের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসব আর আনন্দের আমেজ। বিলিয়ে দেওয়া ও সম্মানজনক ভাবে পাওয়ার অপূর্ব সমন্বয় ঈদুল আজহায়।

কোরবানীর জবেহকৃত পশুর চামড়া ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নিজেদের মাঝে ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও বিক্রয়লব্দ চামড়ার টাকা এলাকার মানুষ সাধারণত মাদ্রাসা, এতিমখানা, এলাকার হতদরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় দুঃস্থদের মাঝে বিলিয়ে দেন। ফলে স্বভাবতই জবেহকৃত পশুর চামড়া কোরবানী দাতা চান উচ্চমূল্যে না হলেও অন্তত সঠিক মূল্যে অর্থাৎ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছরই চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে পড়েন বিপাকে কোরবানী দাতাগণ।

সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য তো দূরের কথা চামড়া নিয়ে তাদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে।

অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় চামড়া ক্রেতাদের সিন্ডিকেটের কারণেই এমনটা হচ্ছে। সূত্রে জানা যায়, কোরবানীর মৌসুমে স্থানীয় কিছু চামড়া ক্রেতারা সংঘবদ্ধ হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চামড়া ক্রয়ে নামেন। এ সময় সংঘবদ্ধ ক্রেতারা যে চামড়াটি একবার দাম করে যায় ঘুরে সবাই একই দাম করে চলে যান। সে ক্ষেত্রে মান হয় না নির্ধারিত মূল্যে। এক সময় দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে এলেও আর দেখা মিলে না ক্রেতার। এক সময় বাধ্য হয়ে পানির দরে চামড়া বিক্রি করেন কোরবানীদাতা।

এতে করে বঞ্চিত হন হতদরিদ্ররা সহ বিভিন্ন লিল্লাহ প্রতিষ্ঠান। সচেতন মহলের দাবি চামড়া ক্রয়ে ক্রেতাদের সরকার কৃর্তক নিধারিত মূল্য অনুসরণে বাধ্য করানো। তাহলে দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখতে পারে কোরবানীর পশুর চামড়া বিক্রয়লব্দ অর্থ।

উল্লেখ্য, এ বছর সরকার কর্তৃক ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানীর পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪৫-৫০ টাকা আর ঢাকার বাহিরে ৩৫-৪০ টাকা, বকরি ১৩-১৫ টাকা।