ছাতিরচরের করচ বন : পর্যটক ধরে রাখতে উদ্যোগ জরুরি

আবদুল্লাহ আল মহসিন, বিশেষ প্রতিনিধি ।।

কিশোরগন্জের নিকলী উপজেলার হাওরের বুকে দ্বীপসদৃশ্য গ্রাম ছাতিরচর। উপজেলা সদরের প্রত্যন্ত হাওরের বুকে ঘোড়াউত্রা নদীর তীরের এ গ্রামটি দীর্ঘদিন যাবত নদী ভাঙ্গনের শিকার। ক্রমেই ছোট থেকে আরো ছোট হয়ে আসছে অবহেলিত গ্রামটি। নদীভাঙ্গন আর বর্ষাকালে ঢেউ প্রতিরোধের জন্য এনজিওর উদ্যোগে গ্রামের পশ্চিম পাশে কয়েক বছর আগে হাজারখানেক করচ গাছ লাগানো হয়।

এই গাছগুলো এখন দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে। বর্ষাকালে এখন নিয়মিত এই জায়গাটিকে পর্যটকরা আরেক “রাতারগুল” বলে চিনতে শুরু করেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক আসছেন নিকলী উপজেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মতো এই করচ বনেও। গাছের ছায়ায় স্বচ্ছ হালকা স্রোতের পানিতে নেমে গোসল করছেন। আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

এরই মধ্যে কোনো কোনো পর্যটকের অশোভন আচরণ গ্রামবাসীর বিরক্তির কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা যায়, ঘুরতে আসা অনেকেই গাছে চড়তে গিয়ে অকারণে ডাল ভাঙছেন; পাতা ছিঁড়ে ফেলছেন। শুরুর দিকে মৌখিকভাবে ঘোষণা দিয়ে ফল হয়নি। এর পর সাইনবোর্ড টানিয়ে বড় অংকের জরিমানা ঘোষণা করার পরও কাজ হচ্ছে না। জরিমানার কথা বলতে গেলে স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয়।

ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: জামাল উদ্দিন বলেন, প্রায় চার একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয়েছে করচ বনটি। এখানে রয়েছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার গাছ। এরই মধ্যে নদীভাঙনে অর্ধেকের মতো বিলীন হয়েছে। ঢেউ থেকে গ্রামটি রক্ষার উদ্দেশ্যে গাছগুলো লাগানো হলেও এখন আর প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ নেই; ধীরে ধীরে এটি হয়ে উঠেছে পর্যটক আকর্ষণেরও অন্যতম স্থান। প্রতিদিন হাজারো ভ্রমণপিপাসু আসছেন করচ বন দেখতে। বর্তমানে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদ। তবে উপজেলা পর্যায় থেকে আরো গুরুত্বের সাথে এর তত্ত্বাবধান করা হলে পর্যটন এবং গ্রামপ্রতিরক্ষা দেয়াল হিসেবে আমরা আরো বেশি উপকৃত হতাম।

সম্প্রতি ঘুরে আসা উৎপল দাসের এফবি টাইমলাইন থেকে সংগৃহীত

এই প্রতিবেদককে গ্রামের শিক্ষক কাজী নুরুল ইসলাম ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন, পর্যটকদের অশালীন আচরণে অনেকটা অতিষ্টই গ্রামবাসী। তারা গাছের ডাল ও পাতা ছিঁড়ে ফেলছে। এটা অন্য সবার কাছে সৌন্দর্য্যের হলেও ছাতিরচরবাসীর জন্য কিছুটা হলেও নিজেদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, এখানকার মানুষ স্বল্প পোশাকে অভ্যস্ত না হওয়ায় শর্ট প্যান্ট লোকালয়ে পর্যটকদের এমন ঘুরাঘুরিতে এলাকাবাসীকে অস্বস্তিতে ভুগতে হয়। নিয়ন্ত্রণহীন আচরণের ফলে থেকে থেকে ইভটিজিংয়ের ঘটনাও ঘটছে। গ্রামের পরিবেশ রক্ষা এবং গাছগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে কার্যকরী পদক্ষেপের জন্য উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।