হাটহাজারীতে প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্যের মহোৎসব!

মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ।।

চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলায় বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের উদাসিনতায় দেদারছে প্রাইভেট নামের কোচিং বাণিজ্যের মহোৎসব চলছে বলে সচেতন মহল অভিযোগ তুলেছেন। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় ধরন পাল্টিয়ে অর্থলোভী কিছু শিক্ষক সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হরহামেশাই চালিয়ে যাচ্ছে প্রাইভেট নামের এ কোচিং বাণিজ্য।

যার ফলে ছাত্রছাত্রীরা হয়ে পড়ছে প্রাইভেট নামের কোচিংনির্ভর। এককথায় কোচিং কিংবা প্রাইভেট নামের বাণিজ্যে শিক্ষকদের কাছে অনেকটা জিম্মি শিক্ষার্থীরা। বর্তমান শিক্ষা নীতিমালায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক প্রাইভেট নামের কোচিংয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আর জেল জরিমানা ও এমপিও বাতিলের মতো কঠোর আইন থাকলেও তা কর্ণপাত করছেন না কতিপয় শিক্ষকরা। প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোনো শিক্ষককে এ আইনের আওতায় এনে কোনো সাজা না দেয়ায় এসব অর্থলোভী শিক্ষক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবী করেন শিক্ষিত মহল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের গাফিলাতির কারণে নিয়ম-নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে শিক্ষকরা মেতে উঠেছেন আইন ভঙ্গের খেলায়, আর প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন বলে অভিমত প্রকাশ করেন সচেতন মহল। প্রায় সারা বছর জুড়েই চলে প্রাইভেট পড়া নামক এ কোচিং বাণিজ্য। শ্রেণিশিক্ষকের কাছে প্রাইভেট বা কোচিংয়ে না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিবে এমন ভীতি কাজ করে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যা অনেকটা বাধ্য হয়েই ঝুঁকতে হচ্ছে প্রাইভেট নামক এ কোচিংয়ের দিকে।

জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ নাজিরহাট, নুরালী মিয়ারহাট, কাটিরহাট, মনিয়াপুকুর পাড়, পেশকারহাট, সরকারহাট, নাঙ্গলমোরা, চারিয়া, ছিপাতলী, ঈদগা মীরেরহাট, মেখল, গড়দুয়ারা, মাদার্শা, ঈছাপুর বাজার, শিকারপুর, মদনহাট, ফতেয়াবাদ, চৌধুরীহাট, নজুমিয়ারহাট, বুড়িশ্চর এলাকাসহ প্রায় সকল মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোরবেলা থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের আনাগোনা চলতে থাকে। দু’একজন শিক্ষক ছাড়া প্রায় সবাই প্রাইভেট বা কোচিংয়ের এ বাণিজ্যের সাথে জড়িত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, সকাল থেকেই ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষককের কাছে প্রাইভেট পড়তে আসেন। আগে প্রকাশ্যে পড়ালেও এখন কিন্তু আড়ালে পড়ান তারা। শুধু তা নয় অনেক শিক্ষককে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেও প্রকাশ্যে কোচিং পড়াতে দেখা যায়। এ সব বিষয়ে কি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দেখেন না? তাদের কাজ কি? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের। তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেন অনেক শিক্ষক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আহমদ জানান, আমাদের স্কুলের কোন শিক্ষক প্রাইভেট কিংবা কোচিংয়ের সাথে জড়িত নাই। তবে তিনার স্কুলের কোন কোন শিক্ষক প্রাইভেট পড়ান তার তথ্য আমাদের হাতে আছে জানালে তিনি বলেন, হয় তো আগে পড়াতেন তবে গত দশদিন থেকে আমরা শিক্ষকদের কোন ধরনের প্রাইভেট কিংবা কোচিং না পড়াতে সতর্ক করে দিছি।

এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করেছেন সচেতন মহল।