৩ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধের ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিবাদ সমাবেশ

খাইরুল মোমেন স্বপন, বিশেষ প্রতিনিধি ।।

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৩ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধসহ ধারালো অস্ত্রের কোপে ১জন আহতের ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও দায়িদের শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জনি। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মজলিশপুর বাজারের মাছ মহালে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্যে আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জনি জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে মজলিশপুর বাজারের জলিল মিয়ার বয়লারে একই গ্রামের বাসিন্দা দুই পক্ষের জমি সংক্রান্ত এক শালিস বৈঠক বসে। যেখানে তিনিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শালিশকালীন একটি পক্ষ উশৃঙ্খল হয়ে শালিস বয়কট করে। রাত ৯টায় উশৃঙ্খল পক্ষটি ৪টি আগ্নেয় ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাজারের পশ্চিম দিক থেকে “নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার” বলে শ্লোগান দিতে দিতে বাজারে প্রবেশ করে। এলাপাতারি একাধিক গুলি ছুঁড়ে। এ সময় বিভিন্ন চায়ের দোকানে বসা মজলিশপুর ফকির বাড়ির কডু ফকিরের পুত্র দুলাল, নয়াহাটির নিদু বেপারীর পুত্র সেলিম, বড়হাটির ইসলাম উদ্দিনের পুত্র ইকবাল ছররা গুলিবিদ্ধ হন। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি কোপে ইসলাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হন।

এ সময় দুর্বৃত্তরা আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়ার বাজারের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ঢুকার চেষ্টা করে। নিকটস্থ চা দোকানের এক শিশুকে কার্যালয়ের চাবি দেওয়ার জন্য বল্লম উঁচিয়ে ধরে। সেই শিশুও সমাবেশে উপস্থিত জনতার সামনে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। পর দিন সকালে মাসুদ রানা বিপ্লব (৪৫) নামে একজনকে চায়নিজ ছুরিসহ আটক করে নিকলী পুলিশ।

তিনি আরও জানান, মজলিশপুর গ্রামের সাবেক এক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আধিপত্য বিস্তারে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি সমর্থিত ব্যক্তিদের যোগসাজসে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এমনকি সাবেক সেই জনপ্রতিনিধি তাকেও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হেনস্থা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি জানান, এই চক্রটিই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের যোগানদাতা। উপজেলার সিংপুর এলাকা থেকে ২টি এবং পার্শ্ববর্তী মিঠামইন উপজেলার আবদুল্লাহপুর থেকে ২টি আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করা হয়। গত ঈদুল আযহার পর পর এসব অস্ত্র সংগ্রহ করে পক্ষটি।

তিনি বলেন, যেহেতু মজলিশপুর একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা, সেহেতু এই অস্ত্রের উপস্থিতি সাধারণ সমাজকে আতঙ্কিত করে রেখেছে। সন্ধ্যার পর পরই বাজারসহ এলাকাবাসি গৃহবন্দি জীবন যাপন করছেন। এই অস্ত্র উদ্ধারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান। অস্ত্রবাজ ও মদদদাতাদের প্রতি কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়ে আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জনি বলেন, শান্ত এলাকাকে অশান্ত করার চক্রান্তে যারা জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। শান্তি ফিরিয়ে আনতে জনগণকে সাথে নিয়ে তিনি চক্রান্তকারিদের বিরুদ্ধে লড়ে যাবেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন নিকলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মো. ইসহাক ভূইয়া, আওয়ামী নেতৃবৃন্দসহ সহস্রাধিক এলাকাবাসি।

উল্লেখ্য, সশস্ত্র হামলার ঘটনায় মো. আক্কাস আলী নামে এক সালিশা বাদি হয়ে জামান, মাসুদ রানা বিপ্লব, কামরুল, মজনু মিয়া, হোসেন, কায়েছ ও মোহাম্মদ আলী নামের ৭ ব্যক্তিকে আসামি করে নিকলী থানায় ৭ সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন। মাসুদ রানা বিপ্লবকে একটি চায়নিজ ছুরিসহ গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।