নিকলী “আবাআখা” কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়!

খাইরুল মোমেন স্বপন, বিশেষ প্রতিনিধি ।।

দিনের পর দিন অফিস কামাই থেকে শুরু করে সহকর্মিদের বেতন-বোনাস আটকে রেখেছেন। মহিলাকর্মিদের সাথে অশালীন আচরণসহ অধস্তনদের কথায় কথায় কটুক্তি করেন। চাকরিচ্যুতির হুমকি দেন। উপায়ান্তর না দেখে বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার “আমার বাড়ি আমার খামার” (একটি বাড়ি একটি খামার) প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আসফিয়া সিরাত বরাবরে একটি দীর্ঘ অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তার১৯ কর্মি।

অভিযোগ ওবিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, “আমার বাড়ি আমার খামার” ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক নিকলী শাখার সমন্বয়কারি মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন প্রকল্প সদস্যদের ঋণের ফাইল মাসের পর মাস নিজ টেবিলে আটকে রাখছেন। এতে সদস্যদের মাঝে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ। ঋণ ও সঞ্চয় আদায়ে অনাকাঙ্খিত ঘটনার শিকার হচ্ছেন কর্মিরা। বেশীরভাগ সময় কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকেন। মাঠ পরিদর্শনে না গিয়েও সকল সুবিধা গ্রহণ করছেন।

অভিযুক্ত প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন

অভিযোগটিতে সমিতির সভাপতি, ম্যানেজার বা সদস্যরা কোন কারণে অফিসে আসলে অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এমনকি কর্মিদের জুলাই মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস এজি অফিস থেকে উত্তোলন করা সত্ত্বেও বিতরণ করেননি। আগস্ট মাসের বেতন পর্যন্ত না পেয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন প্রকল্পটির কর্মচারিরা। এ সংক্রান্ত আলোচনা করতে গেলে তাদের সাথে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন সোহরাব হোসেন।

অভিযোগটিতে আরও প্রকাশ, প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা সত্ত্বেও নিজ ইউনিয়নে কর্মিদের বদলীর স্থলে অন্যত্র কাজ করতে বাধ্য করছেন। সমিতি সভাপতি ও ম্যানেজারের প্রত্যেকের বাৎসরিক ৭ হাজার ২শ’ টাকা করে ২০৮ জনের সম্মানীর টাকা ২ বছর ধরে আটকে রেখেছেন। সোহরাব হোসেনের তোষামুদি না করলে তিনি যাকে খুশি শাস্তির নোটিশ ধরিয়ে দেন।

প্রতিষ্ঠানটির দেশসেরা ১শ’টি ইউনিয়নের ৮৮তম আকলিমা নামের এক কর্মিকে ১৫ সেপ্টেম্বর কর্মে অবহেলার ব্যাখ্যা চেয়ে তলব করেন। কথায় কথায় প্রধান কার্যালয়ের এক উধ্বতন প্রকল্প কর্মকর্তার সাথে সোহরাব হোসেনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের দোহাই দিয়ে নিজের ক্ষমতা জাহির করেন। পাওনা ছুটি দিতে গড়িমসি করেন। কর্মিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কটুক্তি করেন। অফিসের যন্ত্রপাতি মেরামতে ব্যবস্থা না নিয়ে কর্মিদের ব্যক্তিগত টাকায় বাইরে থেকে কাজ করাতে বাধ্য করছেন। নারী কর্মিদের তিনি সুযোগ পেলেই নাজেহালের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগটিতে উল্লেখ করা হয়।

নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জনি জানান, বৃহস্পতিবার অফিস সময়ের শেষ মুহূর্তে অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর আমি অনুলিপি পেয়েছি। যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

Similar Posts

error: Content is protected !!