কাচা মাছ, মাংস ও লতাপাতা খেয়ে স্বাভাবিক জীবন মুক্তার [ভিডিওসহ]

নজরুল ইসলাম তোফা ।।

জীবনে চলার পথে বহু রকম মানুষের সাথে মানুষকে মিশতে হয়, চলতে হয়। প্রতিটি মানুষই তার স্বভাব কিংবা চারিত্রিক দিকে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বকীয়। সকলের নিজস্ব চিন্তাধারা, বিশ্বাস, মতামতও বিভিন্ন রকম। কিন্তু সকলের মাঝেই এমন কিছু বিশেষ স্বভাবের মানুষকে লক্ষ্য করবেন, যাদের মূল লক্ষ্য এবং কাজ হলো সব সময়েই অন্যকে খুশি কিংবা অন্যের মতামত ও চিন্তাকে প্রাধান্য দেওয়া।


সুতরাং অন্যদেরকে খুশি করানো কিংবা অন্যের মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়াটা হলো খুবই ভালো একটি চারিত্রিক গুণ। সকল মানুষই সুখ কিংবা আনন্দ কামনা করে সব সময়ে। আর আনন্দ বা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিধানের জন্য তারাই সর্বদা সচেষ্ট থাকে। ব্যক্তিগত সুখলিপ্সা ও আনন্দ পূর্ণ করার জন্যে যেখানে সেখানেই খুঁজে বেড়ায়। এমনি একজন মানুষের দেখাও মিলেছে; অন্যকে সামান্য হলেও আনন্দ দান করেন। তবে- তাঁর সে আনন্দ প্রদানের যে মাধ্যম তা সরাসরি উপভোগ না করলে যেন একটু অবিশ্বাস হতে পারে। যাক- আসল কথায় আসি। তিনি মাছ, মাংস, লতাপাতা খেতে পারেন। তবে তা তো সকলেই খেতে পারেন এমন কথাই বলবেন। কিন্তু তিনি একেবারে সদ্য কাঁচা সব মাছ, মাংস এবং লতাপাতা খেতে পারেন।

তিনি হলেন, রাজশাহী সদরের সবার সু-পরিচিত ব্যক্তি মুক্তা। তাঁর একটি দোকানও আছে বর্ণালী মোড়ে। এই ধরনের মানুষগুলো সব সময় চান বা চেষ্টা করেন যেন তার আশেপাশের সকলেই যেন সব সময় খুশি থাকেন। তিনি বলেছেন, বিস্ময়বোধ কিংবা কৌতুহলবিহীন মন যেন- মানুষের নির্জীব মন, আসাঢ়-মৃতের মতোই নিস্পৃহ এবং নিস্পন্দ। মনের সজীবতা ছাড়া কোনো কিছু করাটাও যেন সম্ভব নয়। আর মনকে সজীব ও সতেজ রাখতে হলেই বিস্ময়বোধ বা কৌতুহলী আচরণের মানুষ থাকতে হবে।

এ সমাজে প্রায় সবাই প্রশংসা শুনতে ভালবাসে, সে ক্ষেত্রে তিনিও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি তার কর্মের পাশাপাশি সব সময়েই যেন অন্যকে খুশি রাখার প্রচেষ্টায় মগ্ন থাকেন। তাঁর ব্যতিক্রমী চিন্তা-চেতনার এমন সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড সত্যিই অবাক করার মতো। আসলে কি করে মানুষ এমন কাঁচা মাছ-মাংস এবং লতাপাতা খেতে পারবে! এক্ষেত্রে এই ব্যপারটি একেবারেই ভিন্ন বলেই মনে করি। শুধুমাত্র প্রশংসা শুনেই তিনি তুষ্ট, সব সময় যেন সকলের কাছ থেকেই প্রশংসা খুঁজে বেড়ান এবং এর স্থায়িত্বও চান। নিজের প্রতি বিশ্বাস বা আস্থা এতোই বেশি যে, তিনি একদিন না একদিন সমগ্র বাংলাদেশের মানুষদেরকে তাঁর এই আনন্দটাকে তুলে ধরতে পারবেন। তিনি আশা পোষণ করেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি বেসরকারি টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ একদিন এগিয়ে আসবে তার অস্বাভাবিক কাজগুলো তুলে ধরার জন্যে।

সর্বশেষে তিনি বলেছেন, এমন কাঁচা মাছ, মাংস ও লতাপাতা খেয়ে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। বরং শরীরটা নাকি মজবুত হয়। আর এই উদ্ভট কর্মে মানুষের সাথেই সম্পর্কটা গভীর হয়। তিনি আরও বলেছেন, অন্যের খুশি এবং অখুশির ব্যাপারগুলো বুঝেই যদি তাদের মনের মধ্যে খুব বেশি পরিমাণ আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে তাহলে এই কাজটি করতে ইচ্ছে জাগ্রত হবে। রাগ, জেদ, মনঃকষ্ট কিংবা হতাশা তাঁর নেই। জীবনের এই মাঝামাঝি বয়সে এসেও যেন তিনি সবাইকে আপন মনে করে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকেন।

 

লেখক : টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং প্রভাষক।