অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর সড়কের ৫ বছর, ফেরির অপেক্ষায় ভুক্তভোগীরা

মোঃ নজরুল ইসলাম, প্রতিনিধি (অষ্টগ্রাম) ।।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর মহাসড়ক নির্মাণের কাজ পাঁচ বছর আগে শেষ হলেও অজ্ঞাত কারণে অদ্যাবধি বাজিতপুর উপজেলার দীঘিরপাড় ঘাটের ঘোড়াউত্রা নদীতে ফেরি চালু হয়নি। এতে বিপাকে পড়েছে অষ্টগ্রাম উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ। শুধু অষ্টগ্রাম নয়, বাজিতপুরের মাইজচর ইউনিয়নের কিছু অংশ এবং হুমাইপুর ইউনিয়নের লোকজনও এ রাস্তায় যাতায়াত করেন। এ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দেশের রাজধানী ঢাকা ও জেলা সদর কিশোরগঞ্জসহ সারাদেশের সাথে যোগাযোগের একমাত্র নৌঘাট এটি। এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ হাজার লোক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্য খরস্রোতা এ নদীটি পাড়ি দিতে ইজারাদারের নির্ধারিত ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকাই একমাত্র ভরসা। অভিযোগ রয়েছে এখানকার প্রতিটি নৌকা সব সময় অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে থাকে। যার ফলে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে প্রাণহানীসহ বড় রকমের দুর্ঘটনা। তাছাড়া সন্ধ্যার পরে আসা যাত্রীদের প্রায়ই ইজারাদারের লোকদের কাছে হয়রানীর শিকার হতে হয়। গুনতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কিশোরগঞ্জের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সালেহীন জানান, আমাদের ছয়টি ফেরির মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুইটি, চারটি ফেরিই অকেজো। তাছাড়া রয়েছে জনবল সংকট। তারপরও আমরা আশা করছি এবছরই দীঘিরপাড় ঘাটে ফেরি চালু করা সম্ভব হবে। তবে জনবল সংকটের কথা অস্বীকার করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম এ প্রতিনিধিকে জানান, আমাদের ছয়টি ফেরির মধ্যে তিনটি ফেরি সচল রয়েছে। যা বালিখোলা, শান্তিপুর ও চামড়াঘাটে শীঘ্রই চালু করা হবে। তিনি আরও বলেন, বাকী তিনটি ফেরি সচল হওয়ার পর আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে দীঘিরপাড় ঘাটে চালু করা হবে।

উল্লেখ্য, ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর মহাসড়ক নির্মাণের কাজ ২০১১ সালে শুরু হয়ে ২০১৪ সালে এসে শেষ হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘ পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও দীঘিরপাড় ঘাটে অদ্যাবধি ফেরি চলাচল শুরু হয়নি।