হাটহাজারীর চারিয়া ইজতেমা মাঠে তিন দিনের জোড় শুরু

মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ।।

ঢাকার টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের হাটহাজারী চারিয়া আঞ্চলিক ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত ১৫ জেলার পুরাতন সাথী ও ১সাল এর আলেমদের নিয়ে তিন দিনের তাবলীগী জোড়ের প্রথম দিনে জুম্মার নামাজে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে। প্রথম বারের মত ইজতেমা মাঠে জোড়ের আয়োজন হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীদের উৎসুক-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। হাটহাজারী উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার রাঙ্গুনীয়া, রাউজান, ফটিকছড়ি ও ভূজপুর থেকে ছুটে এসেছে ১৫ জেলার আগত মেহমানদের সাথে জুম্মার নামাজ আদায় করতে। সকাল ১০টা থেকে মাঠের বিশাল সামিয়ানা পেরিয়ে বাহিরে জামাতের কাতার হতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি থেকে এসে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান ও নফল নামাজ, তাসবিহ তাহলিল, জিকির-আসগারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এভাবে শুধু মাহ্ফুজুল হক নন, শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লি উপস্থিত হয়েছেন আলমী শূরার তাবলিগী সাথীদের জোড় ইজতেমা ময়দানে। এছাড়া বিশ্বের নানা দেশ থেকে ইজতেমায় এসেছেন বিদেশি মেহমানও।

ইজতেমা মাঠে জোড়ের আয়োজন হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীদের উৎসুক-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। হাটহাজারী উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার রাঙ্গুনীয়া,রাউজান,ফটিকছড়ি ও ভূজপুর থেকে ছুটে এসেছে ১৫ জেলার আগত মেহমানদের সাথে জুম্মার নামাজ আদায় করতে। সকাল ১০টা থেকে মাঠের বিশাল সামিয়ানা পেরিয়ে বাহিরে জামাতের কাতার হতে দেখা গেছে।

জুম্মার নামাজের পূর্বে ইজতেমা মাঠে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সু-বিশাল প্যান্ডেলের ভিতরে ভরপুর বৃদ্ধ, যুবক ও ছোট ছোট শিশুরা। তারা জোড়ের মুসল্লীদের সাথে জুম্মার নামাজ আদায় করতে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে এসেছে। গড়দুয়ার এলাকার বাসিন্দা মোঃ জামসেদ প্রতিবেদককে বলেন, কখনো এত বড় জামাতে নামাজ পড়ার ভাগ্য হয়নি। আল্লাহর রহমতে চারিয়া মাঠে ইজতেমা হওয়াতে আমাদের সৌভাগ্য হয়েছে এতবড় জামাতে নামাজ পড়ার। তাইতো ছোট পুত্রকে নিয়ে সকাল ১০টায় চলে এসেছি নামাজ আদায় করতে।

বিশাল এ মাঠে রয়েছে নিরাপত্তার জন্য তাবলীগের সাথী ভাইদের থেকে ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে রয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়। পুলিশের মধ্যে মাঠে রয়েছে ২ হাজারের অধিক নিরাপত্তা কর্মী। সাদা পোশাকেও রয়েছে অনেক। যাতে কররে নির্বিঘ্নে ইবাদত বন্দেগী করতে পারে আগত মুসল্লীরা। যানজট নিরসনেও ব্যাপক ভূমিকা দেখা গেছে তাদের। তাবলীগী জোড়ে আগত মুসল্লীদের সুবিধার্থে প্রায় ৭ শত লেট্রিন, ৬ স্থানে সুপেয় পানির ট্যাংক বসানো সহ অযু গোসলের জন্য বিশাল আকারে আনিস খালের বাধ দিয়ে পুকুর তৈরী। এ খালে দশ হাজেরর অধিক মুসল্লী একত্রে অযু গোসল করতে পারবেন।এছাড়াও মাঠের বিতরে রয়েছে ছোট ছোট ১২টি পুকুর।

ঢাকার টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের হাটহাজারী চারিয়া আঞ্চলিক ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত ১৫ জেলার পুরাতন সাথী ও ১সাল এর আলেমদের নিয়ে তিন দিনের তাবলীগী জোড়ের প্রথম দিনে জুম্মার নামাজে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে।

এদিকে তিনদিন ব্যাপী তাবলীগী জোড়ে শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জোড়ের কার্যক্রম। এ জোড়ে চট্টগ্রাম বিভাগের মোট ১৫টি জেলা তথা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছডি বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বি-বাড়িয়া, বৃহত্তর সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম সহ ১৫ জেলা থেকে তাবলীগের পুরাতন ১চিল্লা, ৩চিল্লা সহ ১ সালের সাথী, মুরুব্বী ও ওলামায়ে কেরামগণ অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান থেকে ৮টি জামাতে প্রায় দেড়শত মেহমান এ জোড়ে উপস্থিত হয়েছেন।

ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন কাকরাইল মারকাজের মুরুব্বী মাওলানা আবদুল বার সাহেব। জুম্মার নামাজের পর বয়ান করেন হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস ও তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বী মুফতি জসিম উদ্দিন সাহেব। বাদে মাগরিব বয়ান করেন উর্দুতে ভারতের মেহমান ও তালীগের মুরুব্বী মাওলানা ইকবাল সাহেব, বাংলায় অনুবাদ করেন কাকরাইলের মুরুব্বী মাওলানা ওমর ফারুক সাহেব। তিন দিনের এ জোড়ে মঞ্চ পরিচালানা করেন চট্টগ্রামের লাভলাইনের জিম্মাদার মাওলানা মঈনুদ্দিন, মুফতি শাহেদ ও মাওলানা ইনামুল হাসান সাহেব।

জুম্মার নামাজে খুতবা ও ইমামতি করেন তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বী ও কাকরাইল মসজিদের আমির মাওলানা জোবায়ের সাহেব। তিনি গত বৃহস্পতিবার হাটহাজারীতে উপস্থিত হয়েছেন। নামাজের পরে দেশ মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন তাবলীগের মুরুব্বী মুফতি জসিম উদ্দিন।

এদিকে ইজতেমার নিরাপত্তায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এমনটা দাবী করে হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদ আলম এ প্রতিবেদককে জানান, এ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতির ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ইজতেমাস্থলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ইজতেমার সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ রাখা হয়েছে। যারা অত্যান্ত সক্রিয়ভাবে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।