ভৈরবে ভিক্ষুকের কোলে রেখে যাওয়া শিশুটি ইউএন’ওর বাসায়

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফেলে যাওয়া তিনদিনের শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুবনা ফারজানার হেফাজতে দেয়া হয়েছে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউএনও নিজে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কোলে নিয়ে বাসায় ফেরেন। আদালত কোনো আদেশ না দেয়া পর্যন্ত শিশুটি তার হেফাজতে রাখতে জেলা প্রশাসক তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান ইউএনও।

গত শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এক নারী ভৈরবে বাস থেকে নেমে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক ভিক্ষুকের কাছে শিশুটিকে রেখে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যায়। ওই ভিক্ষুক এক ঘণ্টা পর স্থানীয় যুবক আশরাফুলকে ঘটনাটি জানান। পরে তিনি ঘটনাটি ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুবনা ফারজানাকে অবহিত করেন। এরপর ইউএনও’র নির্দেশে আশরাফুল ওইদিন রাত ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার বুলবুল আহমেদের নিকট শিশুটি রেখে আসেন। এরপর ইউএনও’র নির্দেশে শুক্রবার রাতেই পুলিশ এ ব্যাপারে থানায় জিডি করে।

জানা গেছে, গত রোববার (২৬ জানুয়ারি) ইউএনও লুবনা ফারজানার নির্দেশে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির বিষয়ে একটি আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়েছিল শিশুটিকে ঢাকার আজিমপুর ছোটমনি নিবাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিতে। আদালতের বিচারক ইয়াসিন ইসলাম সোমবার পর্যন্ত কোনো আদেশ দেননি বলে জানান ইউএনও।

এদিকে শিশুটি দত্তক নিতে ইউএনও এবং হাসপাতালের ডাক্তারদের কাছে কমপক্ষে ২০ জন আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুবনা ফারজানা বলেন, শিশুটির নিরাপদ হেফাজতের জন্য সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করা হয় গত রোববার। কিন্তু আদালত এখনও এ বিষয়ে আদেশ দেননি। এদিকে শিশুটি দত্তক নিতে অনেক লোক আমার সঙ্গে ফোনে ও সাক্ষাতে যোগাযোগ করছে। এমনকি ডাক্তারের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে। কিন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া শিশুটি কাউকে দত্তক দেয়া সম্ভব নয়। শীতের রাতে হাসপাতালে শিশুটির থাকা খাওয়া ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমি সোমবার রাতে শিশুটিকে আমার সরকারি বাসায় নিয়ে আসি। আদালত সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত শিশুটি আমার হেফাজতে আমার বাসায় রাখব।

সূত্র : জাগো নিউজ