নিকলীতে শিক্ষকের পিটুনিতে শিক্ষার্থী হাসপাতালে

খাইরুল মোমেন স্বপন, বিশেষ প্রতিনিধি ।।

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে শেখ জুবায়ের হোসেন জুবাইদ (৮) নামের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম ও হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষক বদরুল আমীন (৩৫)। এ ঘটনায় শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে জুবাইদের পিতা উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের শেখ মোশারফ (৩৫) নিকলী থানায় ওই শিক্ষককে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কথিত শিক্ষক বদরুল আমিন নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার দেওসহিল গ্রামের বাবুল ইসলামের পুত্র ও নিকলীর রোদারপুড্ডা জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় কর্মরত।

নির্যাতিতের পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে “করোনা” আতঙ্কে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হলেও নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের রোদাপুড্ডা জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসাটি ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার পাঠ শেষে সাময়িক বন্ধ দেওয়া হয়। নূরানি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ জুবাইদকে বাড়ি নিয়ে যেতে তার পিতা শেখ মোশারফকে ফোন করে।

শুক্রবার সকাল ৮টায় তাকে পাশের কামালপুর গ্রামে নিয়ে যান পিতা। দুপুরে জুবাইদের মা রুজিনা বেগম ছেলেকে গোসল করাতে পাঞ্জাবি খুলতেই চমকে উঠেন। সমস্ত শরীরে লালচে মারাত্মক জখম এবং বাম হাতের দুটো আঙ্গুলও ভাঙ্গা দেখতে পান। তার চিৎকারে বাবা মোশারফ ও এসময় বাড়িতে থাকা কাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্বের শিক্ষার্থী শেখ মোবারক হোসাইন সাদী এগিয়ে আসেন।

জুবাইদের কাছে কারণ জানতে চাইলে চরম ভীত জুবাইদ কেঁদে উঠে। অনেক চেষ্টার পর জানা যায়, বদরুল আমিন নামের মাদ্রাসা শিক্ষক তাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপর্যুপরি বেত্রাঘাত ও মুচড়ে আঙ্গুল ভেঙ্গে দিয়েছে। তারা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটে যান।

অভিযোগ না শুনে পরিচালক আবদুল মুক্তাদিরের ভাগিনা নুরুর রহমানসহ কয়েকজন তাদের উপর চড়াও হয়। আহত শিশু জুবাইদকে নিকলী হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হুমাইরা আক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। যৌন নির্যাতন বা হাড় ভেঙ্গেছে কি না তা পরীক্ষার জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। খবর পেয়ে নিকলী থানার এসআই শহীদুল্লাহ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

শেখ মোবারক হোসেন সাদী জানান, বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে নিরাপত্তাহীন বোধ করছি।

মাদ্রাসা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির জানান, বিষয়টি শুনেছি। ঘটনা দু’দিন আগের। খুব দুঃখ পেয়েছি। বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা বন্ধের পরই শিক্ষক বদরুল আমিন নিজ বাড়ি নেত্রকোনায় চলে গেছেন। তিনি এলে কঠিন বিচার করবো।

বদরুল আমিনের কাছে ঘটনার সত্যতা জানতে তার মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামছুদ্দিন মুন্না জুবাইদের জখম দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন। নিকলী থানাকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ওসির সাথে কথা বলেন।

নিকলী থানার পুলিশ ইনচার্জ সামশুল আলম সিদ্দিকী অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির জখম আমি দেখেছি। দুঃখজনক। আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।