করোনাভাইরাস অস্থিরতায় মহাস্থানে সবজির বাজারে ধস

আজিজুল হক বিপুল, মহাস্থান (বগুড়া) ।।

দেশব্যাপী চলমান করোনাভাইরাস অস্থিরতায় বগুড়ার মহাস্থানে শাক-সবজির বাজারে নেমে এসেছে ধস। লোকসানে হতাশগ্রস্ত হয়েছে প্রান্তিক চাষিরা। শীত মৌসুমে সবজি বিক্রি করে চাষিরা কিছুটা লাভের মুখ দেখলেও এখন করোনাভাইরাসের কারণে উৎপাদন খরচই তারা তুলতে পারছেন না। সবজি মোকামগুলোতে প্রথম দিকে যে মুলা এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা মণ বিক্রি হতো সেই মুলা এখন সর্বোচ্চ বাজার ২শ’ টাকা মণে নেমে এসেছে। ফুলকপি এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৪শ’ টাকায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও প্রায় একই দশা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বগুড়ার সবচে’ বড় মহাস্থানহাটের সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবজির পর্যাপ্ত আমদানি থাকলেও দাম নেই। চোখেমুখে হতাশার ছাপ নিয়ে চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে বসে আছে। অথচ কিছুদিন আগে করোনা ভাইরাস তৎপরতা না থাকায় এসব চাষি সবজির ভালো দাম পেয়েছিল।

হাটে আসা সদরের লাহিড়ীপাড়া গ্রামের চাষি রাসেল মিয়া জানান, মাসখানেক আগে সবজির দাম ভালো ছিলো। এরপর করোনা ভাইরাসের কারণে ধীরে ধীরে সবজির দাম কমছে। বর্তমান তার উৎপাদিত ১ ভ্যান মুলা যার অনুমানিক ওজন ১০ থেকে ১২মণ হবে বিক্রি করলেন ১৮’শ টাকায়।

জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা গ্রামের চাষি রহমত আলী জানান, মহাস্থান হাটেই তারা সব সময় সবজি বিক্রি করতে আসেন। দুটো পয়সা বেশি পাওয়ার জন্য। প্রথম দিকে ভালো দামও পেয়েছেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে করোনা ভাইরাসের কারণে ও সরকার ঘোষিত হাট বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা ও গণজমায়েত নিষেধ করায় দুরের পাইকার কম।

কয়েক দিনে বিক্রি না করতে পেরে জমিতে বেশিদিন থাকায় ফলনও অতিরিক্ত হয়েছে বলে কৃষকেরা জানায়। মহাস্থানহাটে আসা পাইকার লিয়াকত আলী জানান, আমরা সারা বছরই মহাস্থান হাট থেকে বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি কিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সবজির চাহিদা পূরন করি। কিন্তু বর্তমান দেশে করোনা ভাইরাস নামক দুর্যোগ নেমে এসেছে। এ কারণে রাজধানীতে মানুষ শূণ্য। শুধু রাজধানীতেই নয় দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় মানুষ করোনা বিস্তাররোধে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না।

যে কারণে সবজি স্বল্পমূল্যে কিনে গাড়িভাড়া করে দূরের বাজারে নিয়ে গেলেও যথাসময়ে বিক্রি না হলে তাদেরও লোকসানে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি যোগ করেন। আর এ কারণে সবজির দরপতন ঘটেছে। বগুড়ার আশেপাশের উপজেলার পুরো মাঠ জুড়ে নানা ধরনের সবজির চাষ হলেও চাষের খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে আর্থিকভাবে তিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা।

মহাস্থানহাট পাইকাড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি, টমেটো ৩ টাকা কেজি, সিম বিক্রি হচ্ছে, ২০ থেকে ২৫ টাকা, করলা ১৫ থেকে ২০ টাকা, গাজর ৮ টাকায়, পটল ২০ টাকা, বরবটি ১৬ টাকা, পেঁপে ১০ থকে ১২ টাকা, শসা ৮টাকা, ৫ কেজি ওজনের লাউ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা, এছাড়া বাঁধাকপি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ টাকায়। এক পিস ছাচি লাউ (জানালা) বিক্রি করছেন, ১০ থেকে ১৫ টাকায়।